বাংলা চর্চা- ১৩।। #চ্যাংদোলা_চ্যাং_কেন?

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১২ মে:
সুকুমার রায় লিখেছেন, “হ্যাংলা হাতি চ্যাংদোলা শূন্যে তাদের ঠ্যাংতোলা।”

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানমতে, দেশি চ্যাংদোলা অর্থ (বিশেষ্যে)— দুই হাত ও দুই পা ধরে দেহ ঝুলিয়ে বহন; কারো দুই পা এবং দুই হাত ধরে চ্যাঙের মতো বহন করে নিয়ে যাওয়া।

সংসদ বাংলা অভিধান লিখছে চ্যাং হল চেঙ-এর বানানভেদ। চেঙ, চেং কথার অর্থ শববহনের খাটুলি বা বাঁশের মাচা। আর চ্যাংদোলা হল শবের ন্যায় বহন।

ফেসবুকে ভাষা চর্চার গ্রুপে ইউসুফ খান (কলকাতা) লিখেছেন, “মুণ্ডারী ভাষায় চাঙ্গা কথাটার মূল মানে – পা দুটোকে দুদিকে ছড়িয়ে V এর মতো করা। সেখান থেকে দু’ফাঁক দু’ভাগ হওয়া মানেতে চাঙ্গা কথাটা কত ভাবে যে সাঁওতালি আর বাংলা ভাষায় আছে!

বাংলায় কথাটা চাঙ্গা চ্যাঙ চ্যাং হয়ে আছে।
#চ্যাংড়া

গাছের ডালের Y এর মতো দুভাগে বেরনো ফ্যাঁকড়াকে সাঁওতালিতে বলে চাঙ্গাচাঙ্গি। গাছের ডালের ফ্যাঁকড়া বেরোচ্ছে মানে চাঙ্গা বেরোচ্ছে, তার মানে গাছ চাঙ্গা আছে বেঁচে আছে। এই চাঙ্গা-ই বাংলাতে চাঙ্গা হয়ে আছে, যার মানে প্রাণবন্ত লাইভ অ্যাণ্ড কিকিং। যেসব ছেলে ছোকরারা বেশি চাঙ্গা বেশি বেশি লাইভ অ্যাণ্ড কিকিং তাদেরকে বলে চ্যাংড়া ছেলে। এদের রোজ রোজ নতুন নতুন হাত-পা গজায়!

#চ্যাংমাছ
যে মাছ অকারণে বেশি বেশি লাফায় সে বেশি চাঙ্গা মাছ তাই সেটা চেঙ্গ চ্যাং মাছ। লাফানোতে চ্যাংমাছের বিশেষ নাম আছে। চ্যাং মাছ লাফাতে লাফাতে এক পুকুর থেকে রাস্তা পার হয়ে অন্য পুকুরে চলে যায়। তাই বাংলা ইডিআম আছে – দু গোড়ের চ্যাং, মানে তলে তলে দুপক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখে চলা কুট লোক। কেউ বেশি টগবগ করে ফুটলে আমরা বলি – ‘চ্যাং মাছের মতো লাফাচ্ছিস কেন?’

#চিংড়ি
খেজুর বাবলা প্রভৃতি গাছের ডাল থেকে ছিরকুটে বেরোনো কাঁটাকে সাঁওতালিতে বলে চাঙ্গা। চিংড়ি মাছের গোঁফ দাঁড়া ঠ্যাং এরকম কাঁটার মতো দুদিকে বেরিয়ে থাকে। হয়তো সে কারণেই জলের পোকাটাকে বুড়ীরা বলতো চেঙ্গুড়ী। চিংড়ি মাছকে আগেকার দিনের বুড়িরা বলতো চেঙ্গুড়ী চেঙুড়ী চিঙুড়ি। মাছ কথাটা যোগ করতো না।“

প্রাক্তন উপাচার্য তথা বাংলার অভিজ্ঞ অধ্যাপক অচিন্ত্য বিশ্বাস এই প্রতিবেদককে জানান, “চ্যাং মুড়ি বা চ্যাং মড়ি কেন? চ্যাংমাছের মতো মুড়ি ( মুণ্ড > ) তাই কানী, চ্যাংমাছকে ‘দেড়কানা’ বলা হয়।

মড়ি = মড়া, চ্যাং দোলা করা মৃতদেহ। চণ্ডালদের মনুসংহিতা-য় ‘চলমান শব’ বলা হয়েছে।
কানী হল পুরোন কাপড়। চ্যাংমুড়ি কানী মৃতের পরিত্যক্ত বসন হতে পারে। সেই বসন যে পরে তেমনি ভাব। চ্যাংমুড়ু তেলুগুতে সিজ মনসার গাছ। বিপ্রদাসের মনসামঙ্গলে আছে।“

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here