বাংলা চর্চা— ২১। চন্দ্রবিন্দু

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২০ মে: “শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই’’— ছোটবেলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই বিঘা জমি’ পড়েনি, এমন বাঙালির সংখ্যা কম। চারপাশে ভুঁইফোরের ছড়াছড়ি। অনেকে রেস্তোরাঁয় খেতে যান। রেনেসাঁস আন্দোলনের চর্চা করেন। কিন্তু অনভ্যাসের জন্য গন্ডগোল করে ফেলেন শব্দে চন্দ্রবিন্দুর অবস্থান নিয়ে। রেস্তোরাঁ হয়ে যায় রেস্তোঁরা। ভুঁইফোর হয়ে যায় ভুইফোঁর।

অক্ষর শুদ্ধ বানান ও ভাষাচর্চা গ্রুপে সম্পাদক/অ্যাডমিন ঝলক দাস জানিয়েছেন, “মৌলিক শব্দে সর্বদা চন্দ্রবিন্দুর অবস্থান প্রথম বর্ণে। কারণ, ধ্বনি পরিবর্তনের সময় শব্দে অনুনাসিক ধ্বনি থাকলে তা সাধারণত প্রথম বর্ণে সঞ্চালিত হয়। যেমন :
বাম > বাঁও, ভূমি > ভুঁই, অন্ত্র > আঁত, পঙ্ক > পাঁক।

বিদেশি শব্দের অন্ত্যবর্ণে কদাচিৎ চন্দ্রবিন্দু দেখা যায়। যেমন : জাহাঁপনা, রেস্তোরাঁ, রেনেসাঁস, জাহাঁবাজ। কয়েকটি সংখ্যাবাচক শব্দের বানানে চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহার আছে। যেমন : পাঁচ, পঁচিশ, পঁয়ত্রিশ, সাঁইত্রিশ, পঁয়তাল্লিশ, পঁয়ষট্টি, পঁচাত্তর, পঁচাশি, পঁচানব্বই।“

চন্দ্রবিন্দু বিলুপ্তির কারণে শব্দার্থের অনিবার্য পরিবর্তনের ওপরেও আলোকপাত করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “গ’-বর্ণে নিম্নে দেখানো হলো—
গাঁ (গ্রাম); গা (শরীর)
গাঁই (ব্রাহ্মণদের শ্রেণিবিভাগ); গাই (গাভি)
গাঁজন (পচন); গাজন (গম্ভীরা)
গাঁতা (দলবদ্ধভাবে কাজ); গাতা (গায়ক)
গাঁথা (গ্রন্থন করা); গাথা (কাব্য)
গাঁদা (ফুলবিশেষ); গাদা (স্তুপ)
গুঁড়া (চূর্ণ, রেণু); গুড়া (নৌকার আড়কাঠ)
গুঁড়ি (কাণ্ড); গুড়ি (নিঃশব্দে গুটিসুটি হয়ে থাকা)
গুঁড়িগুঁড়ি (বিন্দুবিন্দু); গুড়িগুড়ি (ধীরগতিতে)
গেঁট (অনড়, আঁটোসাঁটো); গেট (ফটক)
গেঁয়ো (গ্রাম্য); গেয় (গাওয়ার উপযুক্ত)
গোঁ (জিদ, একরোখামি); গো (গোরু)
গোঁড় (নাভির স্ফীত মাংসপিণ্ড); গোড় (গোড়ালি)
গোঁড়া (অন্ধবিশ্বাসী; গোড়া (মূল)
গোঁপ (গুম্ফ, গোঁফ); গোপ (গো-রক্ষক)।

বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণে চন্দ্রবিন্দুর অবস্থান কত নম্বরে প্রশ্ন করলে ক’জন বলতে পারবেন, যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে।
অবস্থান এক্কেবারে শেষে হলেও গুরুত্বের নিরিখে কিন্তু মোটেই তুচ্ছ নয়!
**

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here