বাংলা চর্চা- ২৩। ডাল-কুকুর

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২২ মে: সামনেই নজরুল ইসলামের জন্মদিন। তাঁর ব্যবহৃত নানা শব্দ নিয়ে আলোচনা করা যায়। নজরুলের ‘লিচু চোর’ কবিতায় আছে,
“বাবুদের তাল-পুকুরে
হাবুদের ডাল-কুকুরে
সে কি বাস করলে তাড়া,
বলি থাম একটু দাড়া।”

ডালকুকুর অর্থ— শিকারি কুকুর, শিকারে লেলিয়ে দেওয়া কুকুর। কথাটা এলো কীভাবে? শ্রী জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস তাঁর ‘বাঙ্গলা ভাষার অভিধান’ গ্রন্থে লিখেছেন: “ধরিবার জন্য শিকারের পশ্চাৎ ছাড়িয়া দেওয়া; কুত্তা=কুকুর। পশ্চাদ্ধাবিত হইয়া শিকার করিবার জন্য যে কুকুরকে ছাড়িয়া দেওয়া (ডালা) যায়”।

ড. মোহাম্মদ আমীন তাঁর ‘পৌরাণিক শব্দের উৎসকথন ও বিবর্তন অভিধান’-এ লিখেছেন, “এই বর্ণনা দেখে বলা যায়, হিন্দি ডালনা বা ডাল শব্দের একটি অর্থ— ‘শিকারে লেলিয়ে দেওয়া’, ‘শিকারি’। এই ডানা ‘ডাল্‌না’ থেকে ‘ডাল’ ও কুকুর-অর্থে ‘কুত্তা’ মিলিত হয়ে হিন্দি ‘ডালকুত্তা’ নির্মিত হয়েছে। যা বাংলায় ‘ডালকুত্তা’।“

এ ছাড়া লিখেছেন, “ডালকুত্তা শব্দের বাংলা হলো: ডালকুকুর। অনেকের মতে, ডালমেশিয়ান হতে হিন্দি ডালকুত্তা নামের উদ্ভব। যা বাংলায় নিজস্ব শব্দ হিসেবে আত্তীকৃত হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, ক্রোয়েশিয়ার ঐতিহাসিক ডালমেশিয়া (Dalmatia) অঞ্চলেভছিল এ জাতীয় কুকুরের আদি জন্মস্থান। এখান থেকে প্রজাতিটি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।“
***

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here