বাংলা চর্চা ৫৪। ‘পরশু ও পরশুরাম’

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২৪ জুন: কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় লিখেছেন, “আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার”

পরশু মানে কুঠার। ঋষি পরশুরামের মূল নাম ছিল রাম। তিনি ভগবান শিবের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। কঠোর তাপস্য ও সাধনার পুরস্কার হিসেবে ভগবান শিব তাঁকে একটি পরশু উপহার দেন, যা দিয়ে তিনি পরবর্তীতে ক্ষত্রিয়দের পরাজিত করে পৃথিবী জয় করেন। তাই তাঁর নাম হয়ে যায় পরশুরাম।

বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। তাঁর পিতা ছিলেন জমদগ্নি এবং মাতা রেণুকা। ক্রোধী ঋষি পরশুরামের খ্যাতি ছিল। তিনি পিতার আদেশে তাঁর মাতাকে হত্যা করেন। পরে অবশ্য পিতৃ আজ্ঞা পালনের জন্য যে বর পান তাতে মাতার পুনর্জীবন, নিজের পাপের স্খালন এবং মাতৃহত্যার স্মৃতি ভুলে যাবার বর প্রার্থনা করে নেন।

পরশুরামের প্রধান অস্ত্র ছিল কুঠার। এই কুঠারকে কঠোর বলার কারণ, তিনি কুঠার দিয়ে অনেক নৃশংস হত্যা করেছিলেন। প্রধানত ক্ষত্রিয় বংশ নির্মূল করার কাজে এই কুঠার ব্যবহৃত হয়েছিল। জনশ্রুতি, এই কুঠারের প্রথম বলি রাজা কার্তবীর্য। পরশুরামের পিতা জমদগ্নি ও মাতা রেণুকা। জমদগ্নি ব্রাহ্মণ হলেও রেণুকা ছিলেন ক্ষত্রিয়কন্যা। জমদগ্নি ঋষির অনুপস্থিতিতে একবার কার্তবীর্য তাঁর আশ্রমে আসেন। রেণুকা যথাবিহিত আপ্যায়ণে কার্তবীর্য এবং পুত্রদের সন্তুষ্ট করলেও কার্তবীর্য হোমধেনুর রস হরণ এবং আশ্রমের অনেক ক্ষতি করেন। পরশুরাম এই সংবাদ পেয়ে কার্তবীর্যের সহস্র বাহু ছেদ করে তাঁকে হত্যা করেন।

পরে অবশ্য কার্তবীর্যের পুত্ররা এর প্রতিশোধ নেয়। তাদের হাতে জমদগ্নি নিহত হন। প্রচণ্ড রোষে ক্ষিপ্ত হয়ে পরশুরাম প্রতিজ্ঞা করেন ক্ষত্রিয় বংশ তিনি নির্মূল করবেন। তাঁর সবল হাতের বলিষ্ঠ কুঠারে শুধু যে কার্তবীর্যের পুত্ররা এবং তাদের অনুচরেরা মারা যান তাই নয়, পৃথিবীকে একশোবার তিনি ক্ষত্রিয়শূন্য করেন। সমস্ত ক্ষত্রিয়ের রক্তে পঞ্চক প্রদেশে যে পাঁচটি রক্তময় হ্রদ সৃষ্টি হয় তাতে তিনি তাঁর পিতৃপুরুষদের তর্পণ করেন। পৃথিবীকে ক্ষত্রিয়শূন্য করবার কাজে তাঁর প্রধান সহায়ক ছিল এই কুঠার, তাই তাঁর কুঠারকে বলা হয়েছে কঠোর।
(সূত্র—মিলিয়নকন্টেন্টডটকম, ১৫ নভেম্বর ২০২১)।
***

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here