বাংলা চর্চা ৬০। ‘ধর্মে আছো, জিরাফেও আছো’

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৩০ জুন: শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের একটা কাব্যগ্রন্থের নাম ‘ধর্মে আছো, জিরাফেও আছো’। কথাটির অর্থ কী?

জনশ্রুতি আছে, জয়পুরের মহারাজ একদা জাহাজে করে আফ্রিকা থেকে একটি জিরাফ নিয়ে আসেন। এমন বিশালাকৃতির কোনো প্রাণী জয়পুরবাসী আগে দেখেনি। তাই, অনেকেই সেই জিরাফ দেখার জন্য রাজার চিড়িয়াখানায় ভিড় জমায়। অন্যদিকে, রাজার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে ধর্মগুরুরা প্রচার করতে লাগলো, এই প্রাণী ঈশ্বরের সৃষ্ট কোনো প্রাণী নয়, এটা নিশ্চয়ই শয়তানের সৃষ্টি। তাদের এমন মতবাদ প্রচারের ফলে, ধর্মপ্রাণ মানুষ জিরাফ দেখা থেকে বিরত থাকে। কিন্তু, মহারাজও কম নয়। তিনি বুদ্ধি খাটিয়ে রাতেও চিড়িয়াখানা উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করেন। এদিকে, স্বয়ং ধর্মগুরুরা কৌতূহলী হয়ে রাতের আঁধারে গোপনে সেই জিরাফ দেখতে যায়, যা পরে জানাজানি হয়ে যায়।

সেই থেকে এই প্রবাদের প্রচলন। অর্থাৎ, সুবিধাবাদী মানুষ, যারা নিজের স্বার্থে দুই পক্ষ অবলম্বন করে তাদেরকে নিয়ে এই প্রবাদ; “ধর্মে আছো, জিরাফেও আছো”।

‘শুদ্ধ বানান চর্চা’ ফেসবুক গ্রুপে ফকরুল ইসলাম একথা জানিয়ে লিখেছেন, “আমি গুগলে পেয়েছি। কেউ প্রামান্য অন্য তথ্য দিতে পারেন।”

সন্দিহান হয়ে প্রাক্তন উপাচার্য বাংলার অধ্যাপনায় ৩৮ বছরের অভিজ্ঞ ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাসের কাছে এটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। তাঁর উত্তর, “ধর্ম আর জিরাফ তুলনায় আসে না, এমন দুটি বস্তর মধ্যেই আছি। অর্থাৎ সার্বিক বিশ্বাসহীন এক সময়ের ইঙ্গিত। শক্তি চট্টোপাধ্যায় যে মৌহূর্তিক মজা বা মৌজের জন্য ‘প্লতেরো’ বা ‘নৈরাকার’ লিখেছেন, এই ধর্ম- জিরাফও তেমনি। জয়পুরী কহানির অন্য মুদ্রিত প্রমাণ আছে কি?“

আর এক প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক, ভাষাবিদ ডঃ পবিত্র সরকারও অবশ্য এই ঘটনার সত্যতায় একমত হতে পারেননি। তাঁর মতে, “শক্তি ওই গল্প জানত বলে আমার মনে হয় না। এটা একটা চমকপ্রদ কথা ও উদ্ভাবন করেছে। এ বইয়ের সঙ্গে সুবিধাবাদের কোনও সম্পর্ক তো দেখি না।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here