ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র বেঙ্গালুরু, ২৬ টি গাড়ি ও ২০০ টি বাইকে আগুন, দফায় দফায় সংঘর্ষে নিহত ৩‌

আমাদের ভারত, ১২ আগস্ট: একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে চেহারা নিয়েছিল উত্তর-পূর্ব বেঙ্গালুরু। ফেসবুকে পোস্টটি করেছেন কংগ্রেসের এক বিধায়কের ভাইপো। বিধায়কের বাড়ির সামনেই ওই পোস্টের কারণে ভাঙচুর চালায় ক্ষিপ্ত জনতা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয় পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে পুলিশ গুলিও চালিয়েছে। এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আহত হয়েছেন ৬০ জন পুলিশ কর্মী।

মোট ২৬টি গাড়ি ২০০ টি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ভাঙচুর চালানো, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এখনো পর্যন্ত ১১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলকেশীনগরের কংগ্রেস বিধায়ক শ্রীনিবাস মূর্তির ভাইপোর এক পোস্টকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অভিযোগ ফেসবুকে কুরুচিকর ও বিতর্কিত পোস্ট করেছেন ঐ বিধায়কের ভাইপো। অভিযুক্ত শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার রাতে বিধায়কের কাবাল বীরসান্দ্রা এলাকার বাড়ির সামনে ভিড় জমতে থাকে। জমায়াতের মধ্যে থেকেই বিধায়কের বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় একাধিক গাড়িতে। বাধা দিতে গেলে বিধায়কের নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করা হয়।

ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না ওই বিধায়ক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের। আহত হন পুলিশ কর্মীরাও। এরপরই লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়। পুলিশ গুলি চালায় বলেও অভিযোগ। ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আহত হয়েছেন একজন সাংবাদিকও।

পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার। ওই এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ফেসবুকে যে পোস্ট করেছিলেন সেই বিধায়কের ভাইপোকেও। এদিকে ঘটনার পর একটি ভিডিও মেসেজের মাধ্যমে শান্তির বার্তা দিয়েছেন বিধায়ক মূর্তি। হাতে আইন তুলে না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। পুলিশের ওপর হামলার নিন্দা করে শান্তি বজায় রাখার আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পাও।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here