বিজেপিতে বড়সড় পরিবর্তন হচ্ছেই! রাজ্য নেতৃত্বের ওপর অসন্তুষ্ট সংঘ ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

বিজেপিতে বড়সড় পরিবর্তন হচ্ছেই! রাজ্য নেতৃত্বের ওপর অসন্তুষ্ট  সংঘ ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

প্রদীপ কুমার দাস, আমাদের ভারত, ৪ সেপ্টেম্বর: রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বে বড়সড় পরিবর্তন হচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে এই পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সংঘের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও একই মত। তাঁরা মনে করছেন, বর্তমান রাজ্য নেতৃত্ব ২০২১—এ বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে পারবে না। তাই খুব শিগগিরই রাজ্য নেতৃত্বে বড়সড় রদবদল হচ্ছে।

সংঘের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে দিলীপ ঘোষের কর্মপদ্ধতিতে খুশি নন তা ইতিমধ্যেই তাঁকে সরাসরি বুঝিয়ে দিয়েছেন। দিলীপ ঘোষ নিজেও গত ২৭ আগস্ট সেটা সাংবাদিকদের কাছে পরিষ্কার করে দিয়েছেন। সেদিন রাজ্য কমিটির বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব না চাইলে আমি সভাপতি থাকব না।‘

সম্প্রতি তৃণমূলের ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির পাল্টা ‘চা চক্রে দিলীপদা’ কর্মসূচি শুরু করেছেন দিলীপ ঘোষ। অনেকেই ভেবেছিলেন যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দিলীপ ঘোষকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরার জন্য এই কর্মসূচি নিয়েছে। কিন্তু বিজেপির বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বের শুধুই তৃণমূল বিরোধিতা বা মমতার এই পাল্টা কর্মসূচিকে ভাল ভাবে নিচ্ছেন না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এখনও পর্যন্ত রাজ্য নেতৃত্ব তেমন কোনও গঠনমূলক আন্দোলন তৈরি করতে পারেননি। তাদের সব কর্মসূচি শুধু মমতা বিরোধিতা। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষের জন্যে কী করবে তার কোনও রূপরেখা দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে রাজ্য বিজেপি তুলে ধরতে পারেনি।
মানুষের মনে কোন ও আস্থা তৈরি করতে পারেনি বলে মনে করছে সংঘ এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

লোকসভা নির্বাচনে রাজ্য থেকে ১৮ জন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। এই সাফল্যে বর্তমান রাজ্য নেতৃত্ব অনেকটাই যে কৃতিত্বের দাবিদার তা তাঁরা হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একে পুরোপুরি দিলীপ ঘোষ বা মুকুল রায়দের সাফল্য বলে মনে করছেন না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মনে করেন লোকসভা ভোটে মোদি হাওয়া এবং শাসক বিরোধী ভোটই এই সাফল্যের মূল কারণ। লোকসভা ভোটে মোদি ঝড়ে বিজেপি ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। কিন্তু এই ভোটারদের বিজেপি মুখি করতে বা তাদের ধরে রাখার জন্যও বর্তমান রাজ্য নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কারণ এই ভোটারদের ধরে রাখার জন্য যে কর্মসূচি নেওয়ার প্রয়োজন তা বর্তমান রাজ্য নেতৃত্ব এখনও করে উঠতে পারেনি। তাদের মূল কর্ম পদ্ধতি হল শুধুই ’তৃণমূল এবং মমতা বিরোধিতা’। এই নেতিবাচক কর্ম পদ্ধতিতে অসন্তুষ্ট সংঘের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও। তাঁরা মনে করেন ইতিবাচক কোনও কর্মসূচি না নিলে এই ভোটাররা যে কোনও মুহূর্তে ঘুরে যেতে পারে।

তাই সংঘ এবং বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্য বিজেপিতে বড় সড় রদ বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সম্প্রতি সংঘের সহ সরকার্যবাহ ভাগানিয়াজি এবং ক্ষেত্রীয় প্রচারক প্রদীপ যোশী কেশব ভবনে দিলীপ ঘোষকে এই অসন্তোষের কথা বুঝিয়ে দিয়েছেন। গত শনিবার তিন দিনের সফরে
রাজ্যে এসে ছিলেন সরসংঘ চালক মোহন ভাগবত। তিনিও দিলীপ ঘোষ এবং বিজেপির সংগঠন সম্পাদক সুব্রত চ্যাটার্জিকে ডেকেছিলেন। তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, মমতা বিরোধিতা ছাড়া রাজ্য বিজেপিকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে তাঁরা কী পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু দুই জনের কেউই কিছু বলতে পারেননি।

সংঘ সূত্রের খবর আসলে দিলীপ ঘোষরা যে এমন কিছুই করতে পারছেন না সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন সংঘ প্রধান। সংঘ এবং বিজেপি নেতৃত্ব দিলীপ ঘোষেদের যোগ্যতা অনেক আগেই যাচাই করে নিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন বর্তমান নেতৃত্ব মমতা সরকারকে সরিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে পারবেন না। তাই, তাঁরা দলে রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঠিক হয়েছে, আপাতত দিলীপ ঘোষকে না সরালেও তাঁর ক্ষমতা খর্ব করা হবে। সংগঠনে দক্ষ এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁকে করা হবে কার্যকরি সভাপতি। মূল ক্ষমতা থাকবে সেই কার্যকরি সভাপতির হাতে। পুজোর পরই এই পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

" class="prev-article">Previous article

Related Articles

2 Comments

  • Ranjit khan , September 4, 2019 @ 10:42 PM

    কবে হবে

    • Mahadeb Maity , September 7, 2019 @ 4:52 PM

      Yes right decision

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + 14 =

amaderbharat.com

Welcome To Amaderbharat.com, Get Latest Updated News. Please click I accept.