মালিয়া-নীরব-মেহুলদের ৯ হাজার কোটিরও বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ব্যাঙ্কের হাতে তুলে দিল ইডি

আমাদের ভারত,২৩ জুন: ভারতের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি) বিজয় মালিয়া, মেহুল চোকসি আর নীরব মোদীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কগুলির হাতে দিল বুধবার। ভারতের রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা তছরুপ করে বিদেশে পালিয়ে যায় ওই তিন শিল্পপতি। জানা গেছে তছরুপ হওয়া মোট অর্থের প্রায় ৮০ শতাংশ পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে ইডি।
এর আগে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের (পিএএমএল) বিশেষ আদালত পলাতক ব্যবসায়ীদের সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করার অনুমতি দেয় ইডিকে। নির্দেশ মত সেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে প্রায় ৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে ফেরত দিল ইডি। পলাতক এই ৩ শিল্পপতিকে ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে কিংফিশার কোম্পানির নামে প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আছে। ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে ব্রিটেনে পালিয়ে যায় বিজয় মালিয়া। ২০০৯ সালে আদালত তাকে পলাতক আর্থিক প্রতারণাকারী বলে ঘোষণা করে। তার পর তাকে ব্রিটেন থেকে বন্দি করে ভারতে আনার আর্জি জানায় সিবিআই এবং ইডি। সেখানকার আদালত এই বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে ২০১৮ সালে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) প্রতারণা কাণ্ডে নীরব মোদী ও তার কাকা মেহুল চোকসিও প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তছরুপের মামলায় অভিযুক্ত হয়। মামলা সামনে আসতেই দুজনে ভারত ছেড়ে পালায়। বিজয় মালিয়ার মত গয়না ব্যবসায়ী নীরব মোদীও ব্রিটেনের লন্ডনে নাগরিকত্ব নেয়। তবে ২০১৯ সালে নীরব মোদীকে ইডির আবেদনে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং সেখানকার আদালতে ভারতে প্রত্যার্পণ নিয়ে মামলা চলছে।

পিএনবি প্রতারণা কান্ডে জড়িত মেহুল চোকসি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রকাশিত এবারের ঋণখেলাপিদের তালিকায় প্রথম স্থানে। ভারত থেকে পালিয়ে তিনিও আশ্রয় নেয় অ্যান্টিগুয়া-বারমুডায়। সম্প্রতি ডোমিনিকায় তার গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তাকেও ভারতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সিবিআই এবং ইডি। তবে সেখানে চোক্সির বিরুদ্ধে অন্য মামলাও রুজু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে ২৩ মে থেকে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান এবং ২ দিন পর তাকে ডোমিনিকায় পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার করে ডোমিনিকা পুলিশ। তদন্তের পর জানা যায় মেহুল ডোমিনিকা হয়ে কিউবা পালানোর পরিকল্পনা করেছিল কিন্তু পুলিশের হাতে ধরা পরায় তার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here