আমাদের ভারত, ৬ জুলাই: রাজ্য বিধান পরিষদ গঠনের জন্য বিধানসভায় আজ প্রস্তাব পাস হয়ে গেল। ভোটাভুটির মাধ্যমেই এই প্রস্তাব পাস হয়। তবে বিধানসভায় প্রস্তাব পাস হলেও বিধান পরিষদ গঠনের জন্য রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের সিলমোহর দরকার। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রক ঘুরে লোকসভা ও রাজ্যসভা অর্থাৎ সংসদের দুই কক্ষে প্রস্তাবটি পাস করাতে হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর লাগবে। তবেই রাজ্যে বিধান পরিষদ চালু হবে। বিধান পরিষদ গঠনের বিরোধিতায় সরব বিজেপি। তাদের অভিযোগ এতো ঋণের বোঝা রয়েছে রাজ্য সরকারের মাথায়, তার উপর করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা। সেখানে দাঁড়িয়ে বিধান পরিষদ গঠন করে খরচ বাড়ানোর কি প্রয়োজন?
উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক বিহার অন্ধ্রপ্রদেশ তেলেঙ্গানা জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। ১৯৫২ সালের ৫ জুন ৫১ সদস্যকে নিয়ে বাংলায় বিধান পরিষদ গঠিত হয়। ১৯৬৯ সালের ২১ শে মার্চ তার অবলুপ্তি ঘটে। বিধান পরিষদ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলাকালীন আপত্তি তোলেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ। তার কথায় বিধায়কদের উপর কি ভরসা নেই? একে কোটি কোটি টাকার দেনা, তার ওপর কোভিডের প্রকোপ, সেই সময় বিধান পরিষদ গঠন করে বাড়তি খরচের কি প্রয়োজন?বিধান পরিষদ গঠন করতে প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলেও যুক্তি দেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামী।
বিধানসভার উপমুখ্য সচেতক তথা প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায় এর পাল্টায় বলেন, বিধান পরিষদের গুরুত্ব কি অনেকই তা বোঝেন না। বিধানসভায় বাম ও কংগ্রেস শুন্য। গণতন্ত্রের পক্ষে তা শুভ নয়। এক ব্যক্তি এক নেতা পদ্ধতি সমর্থনযোগ্য নয়।”
কিন্তু আজ বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে একমত পোষণ করে সংযুক্ত মোর্চার সমর্থিত ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, বিধান পরিষদ গঠন সাদা হাতি পোষার সমান।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলে, একসময় যারা সরকার পক্ষে ছিলেন তারাই ২০১১ সালে বিধান পরিষদের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। আজ বিরোধী আসনে বসে এর বিরোধিতা কেন? বাংলা স্বার্থেই প্রস্তাবকে সমর্থন করা হোক।
বিধান পরিষদ গঠন নিয়ে ভোটাভুটি হয় বিধানসভায়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১৯৬টি। বিপক্ষে ভোট দেন ৬৯ জন বিধায়ক। বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন মোট ২৬৫ জন বিধায়ক।
আরও পড়ুন “স্পিকার দলদাস, বিধানসভাতেও বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হচ্ছে”: শুভেন্দু অধিকারী
২০১১ সালে সরকার গঠনের পরই এডহক কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়। কিন্তু সেই সময় এই আলোচনা এগোয়নি। রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল বিপুল ঋণের বোঁঝা নিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তাই এই মুহূর্তে বিধান পরিষদ গঠন করা সম্ভব নয়। কিন্তু আজ পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিধানসভায় সমাজের সব পক্ষের মানুষের প্রতিনিধিত্ব থাকা দরকার। তাই বিধান পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

