জিটিএ নির্বাচনের বিরোধিতা করে আমরণ অনশন শুরু গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং’য়ের

আমাদের ভারত, দার্জিলিং, ২৫ মে: জিটিএ নির্বাচনের বিরোধিতা করে আমরণ অনশন শুরু করল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং।

বুধবার তিনি সিংমারি এলাকায় নিজেদের দলীয় দফতরে অনশনে বসেন। তাকে টিকা, খাদা পড়িয়ে বরণ করে নেন তার স্ত্রী আশা গুরুং। ছিলেন তার ছায়াসঙ্গী রোশন গিরিও। তবে এদিন বিমল গুরুং স্পষ্ট করে দেন জিটিএ’র বিরোধিতা করলেও সরকারের বিরুদ্ধে নয় তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তার জোট অটুট রয়েছে। আর তা ২০২৪-এ লোকসভা নির্বাচন ও ২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনেও অটুট থাকবে। তিনি চিঠি দিয়ে আগেই জানিয়েছিলেন সরকার আলোচনায় বসলে তিনি অনশন থেকে সরে আসবেন। এদিনও তিনি আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেন এই বার্তা। তিনি বলেন, ‘সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই আমি অনশনে বসলাম।’
         
জিটিএ নির্বাচন নিয়ে এখন সরগরম পাহাড়। একদিকে অনিত থাপা, অজয় এডওয়ার্ডরা প্রার্থী বাছাই শুরু করছে। অন্যদিকে আমরণ অনশন শুরু বিমলের। আবার পাহাড়ে গিয়ে জিটিএ নির্বাচন আটকে দেওয়ার হুমকি দিলেন সাংসদ রাজু বিস্তা। এদিকে বিমলের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানালেন ভারতীয় গোর্খা সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি এসপি শর্মা। জিটিএ নির্বাচন ঘোষণা করার আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বিমল গুরুং। তিনি ওই চিঠিতেই লিখেছিলেন জিটিএ নির্বাচনের আগে পাহাড়ে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি সমতলের ৩৯৬ টি মৌজাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই দাবি পূরণের আগে কোনওরকম নির্বাচন হলে পাহাড়ে অনশন শুরু হবে। প্রয়োজনে তিনি নিজেও আমরণ অনশন শুরু করবেন। তবে সরকার আলোচনায় বসলে তিনি রাজি আছেন। কিন্তু আলোচনায় না ডাকায় পাহাড়ে রিলে অনশন শুরু করে মোর্চার সদস্যরা। এবার নির্বাচন ঘোষণা করতেই নিজে আমরণ অনশনে বসে পড়লেন বিমল গুরুং। এদিন স্ত্রী আশা গুরুং ও রোশন গিরিকে সঙ্গে নিয়ে দুপুর বেলা তিনি অনশন মঞ্চে পৌঁছান। সেখানেই তাকে টিকা, খাদা পড়িয়ে প্রথমে বরণ করে নেয় তার স্ত্রী আশা গুরুং। পরে রোশন গিরি সহ দলের অন্যান্য সদস্যরা বরণ করে নেন বিমলকে। তিনি অনশনে বসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমি গোর্খাদের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছি। তাই তাদের স্বার্থেই আমি আমরণ অনশন শুরু করলাম। কারণ ২০১৭ সালে যারা পাহাড়ের গোর্খাদের সম্মান বিক্রি করে দিতে চাইছিল তারা যাতে জিটিএ’র ক্ষমতায় না আসে তাই এই বিরোধিতা। আমি পাহাড়ের মানুষকে বলব শান্তি বজায় রাখুন। কারণ মূলত রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই আমি এই অনশন শুরু করেছি। আমি কোনওভাবেই চাই না তৃণমূলের সঙ্গে আমাদের জোট ভাঙুক। আমি চাই জোট অটুট থাকুক যেমন রয়েছে। তবে জিটিএ নির্বাচনের বিরোধিতা করছি।”
         
এদিকে এদিন পাহাড়ে গিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি বলেন, “জিটিএ নির্বাচন মানেই দুর্নীতির টেন্ডার ডাকা। কারণ জিটিএ দিয়ে পাহাড়ে উন্নয়নের কাজ হয়না। তাই আমরা এর বিরুদ্ধে রয়েছি প্রথম থেকেই। এই নির্বাচন বন্ধ করতে প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবো আমরা। তবে বিমল গুরুংয়ের পাশে আমরা রয়েছি।”

আবার পাহাড়ের নতুন দল ভারতীয় গোর্খা সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি এসপি শর্মা বলেন, “বিমল গুরুং যেভাবে আন্দোলন করছে তাতে আমরা তার পাশে রয়েছি। আমরাও জিটিএ নির্বাচন চাইছি না। আমি নিজে যাবো বিমলের সঙ্গে দেখা করতে।” 

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here