বীরভূমের মল্লারপুরে কোথাও বরফের দেশ তো কোথাও আদিবাসী গ্রাম

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ৩০ সেপ্টেম্বর: রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব যেমন ছিল, তেমনই দ্বন্দ্ব রয়েছে পুজোর থিমেও। বীরভূমের মল্লারপুরের রায়পাড়ার অগ্রণী সংঘ এবং সুহৃদ সংঘ এবারও একে অপরকে টেক্কা দিতে কোমর বেঁধেছে। সুহৃদ সংঘের এবারের থিম বরফের দেশে। আগ্রনী সংঘের থিম আদিবাসী পল্লী। এবারও জেলায় নজর কাড়বে মল্লারপুরের দুই যুযুধান পুজো কমিটি।

রায়পাড়ার সর্বজনীন পুজো বলতে সুহৃদ সংঘকেই জানতেন এলাকার মানুষ। কিন্তু কোনো এক সময় রাজনৈতিক কারণে অগ্রণী সংঘের সৃষ্টি হয়। এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক থাকলেও পুজোর কদিন থিমের লড়াইয়ে মাতেন উদ্যোক্তারা। সুহৃদ সংঘের থিম বরফের দেশ। মণ্ডপের ভিতর তুলো দিয়ে বরফের পাহাড় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রয়েছে বরফের দেশের জীবজন্তু পেঙ্গুইন, বল্গা হরিণ, শ্বেত ভাল্লুক, চামরি গাই, কুকুরে টানা স্লেজ গাড়ি। প্রথমেই ইগলুর দেশ দিয়ে মূল মন্দিরে প্রবেশ করতে হবে। রয়েছে ট্রয় ট্রেন।

পুজো কমিটির সদস্য উজ্জ্বল মজুমদার বলেন, “বরফের দেশ থিম করেছি শিশুদের সাম্যক জ্ঞান অর্জন করাতে। কারণ শিশুরা ইগলু পড়েছে, বরফের দেশ সম্পর্কে পড়াশোনা করেছে। কিন্তু অনেকের বরফের দেশ নিজের চোখে দেখা হয়নি। তাই এই উদ্যোগ। মণ্ডপে ঢুকলেই বরফের দেশের আমেজ পাবেন। কারণ মণ্ডপে থাকছে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত মেশিন”।

পিছিয়ে নেই অগ্রণী সংঘও। এবার তাদের থিম আস্ত আদিবাসী পল্লী। প্রতিমাতেও রয়েছে আদিবাসী ছোঁয়া। পুজো উদ্যোক্তা সরজিৎ রায় বলেন, “এবার আমাদের থিম হচ্ছে আদিবাসী সংস্কৃতি এবং আদিবাসী পরম্পরা। একটি আদিবাসী পল্লীকে তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। থাকছে আদিবাসী নৃত্য। বেশ কয়েকটি আদিবাসী বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে আদিবাসীদের জীবনযাত্রা তুলে ধরা হবে। মণ্ডপে ঢুকতে দেখা যাবে সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই নায়ক সিধু-কানুর মূর্তি। তার সাথে পাহাড়ের কোলে অবস্থিত ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম। দেওয়ালে দেওয়ালে আদিবাসী চালচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আদিবাসীরা প্রকৃতির সাজে সজ্জিত হয়। সেই বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে”।

মল্লারপুর মেঘদূত ক্লাবের এবারের থিম স্বপ্নের দেশে। গা ছম ছম পরিবেশের পাশাপাশি থাকছে সাউন্ড সিস্টেম। মণ্ডপে ঢুকলে মনে হবে পৌঁছে গেছি রূপকথার দেশে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here