পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কমিটি জনগণের অর্থ পাইয়ে দেওয়ার নামান্তর, দাবি রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরীর

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২৫ মে: রাজ্যে গত ১১ বছরে বিভিন্ন কমিটি গঠিত হয়েছে, জনগণের অর্থ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের নেতৃত্বে সদ্য সৃষ্ট কমিটি তার নবতম সংযোজন।” বুধবার এই মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী।

বিশ্বজিৎবাবু এই প্রতিবেদককে বুধবার জানান, “রাজ্যে চতুর্থ অর্থ কমিশনের ধাঁচে একই ব্যক্তিকে মাথায় রেখে পঞ্চম অর্থ কমিশন গঠন করা হয়েছে। যাঁকে এই কমিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁর নেতৃত্বে রাজ্য কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা নির্ধারণে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ৬ মাস কেন, ৬ বছরের মধ্যে তিনি তাঁর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে পেরেছেন বলে আমাদের জানা নেই।

তাছাড়া, এই কমিশনের মূল কাজ পঞ্চায়েত-পৌর নাগরিকদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিরূপণ করা এবং আয়ের উৎস নির্ধারণ করা। অর্থাৎ গ্রামীণ স্তরের মানুষের আয়ের পথ দেখানো। সাধারণত এই ধরনের কমিটিতে বিশিষ্ট ব্যক্তি, যাঁরা সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মতামত ব্যক্ত করতে পারেন, তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এটাই রীতি।

কিন্তু যে ব্যক্তিকে মাথায় রেখে এই কমিটি গঠিত হয়েছে, তাঁকে রাজ্যের শাসক দলের হয়ে কথা বলতেই বেশি দেখা যায়। আদতে বর্তমানে পঞ্চায়েত – পৌরসভা স্তরে যে দুর্নীতি চলছে, তাকেই বৈধতা দেওয়ার প্রয়াস। রাজ্যে যখন বেকারের সংখ্যা বিপুল, মানুষ কাজ হারাচ্ছেন, নিয়োগে দুনীতি ঘটছে, অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তখন ডোল রাজনীতিকে বৈধতা দিতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

যিনি শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন বাজারি পত্রিকায় সওয়াল করেন, পুঁজিপতিদের স্বার্থে অর্থনীতিকে চালনা করার মত দেন, তাঁর কাছ থেকে সাধারণ জনগণের স্বার্থে কোনও ইতিবাচক দিশা এই অর্থ কমিশন দেখাতে পারবে বলে আমরা মনে করি না। তাই এই কমিশন গঠন জনগণের কোনো কাজে লাগবে না।

প্রসঙ্গত, পঞ্চম অর্থ কমিশন গঠন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ফের সেই কমিশনের চেয়ারম্যান হলেন অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার। এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ কথা জানিয়েছে অর্থ দফতর। বুধবার নবান্ন সূত্রে এখবর জানা যায়। অর্থ দফতরের প্রধান সচিব মনোজ পন্থ জারি করেছেন বিজ্ঞপ্তিটি।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here