বিজেপি কর্মীর বোনের শ্লীলতাহানি করে রাস্তায় আছড়ে ফেলে মারধর, উত্তপ্ত ঘাটাল, অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

কুমারেশ রায় মেদিনীপুর, ১০ জুন:
বিজেপি কর্মীর বোনকে রাস্তায় ফেলে মারধর এবং শ্লীলতাহানীর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ঘাটালের ৫ নম্বর অঞ্চলের চন্দননগর। এক প্রতিবেশী ওই কিশোরীকে বাঁচাতে গেলে তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। তার মাথায় ছুরির কোপ মারা হয়।

অভিযোগ, বিজেপি কর্মী শম্ভু রানার বোন পাপিয়া বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন দোকানে যাচ্ছিলেন সেই সময় তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা পাপিয়ার উপরে চড়াও হয়। প্রথমে তাঁর শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। সে বাধা দিলে তাঁকে রাস্তায় আছড়ে ফেলে মারধর করতে থাকে। তা দেখে
পাপিয়া’কে বাঁচাতে যান বিনয় সাঁতরা নামে এক প্রতিবেশী। তাঁকেও মারধর করে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। তাঁর মাথায় ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এর পরে উভয় পক্ষের হাতাহাতিতে কয়েকজন জখম হয়েছেন। পাপিয়াসহ চারজনকে বীরসিংহ গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন তৃণমূল কর্মী।

বিজেপির অভিযোগ ঘটনাটি তৃণমূল নেতা প্রশান্ত রায়এর উপস্থিতিতে ঘটে। এই বিষয়ে ঘাটালের বিজেপির বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, ওই অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে অনেক দিন ধরেই কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, আজ ১২ বছরের পাপিয়াকে মারধোর করে আছাড় দিয়েছে। এই ঘটনা তৃণমূলের প্রশান্ত রায়ের নির্দেশে হয়েছে। আমরা পুলিশকে সবকিছু জানিয়েছি যদি প্রকৃত দোষীদের না ধরা হয়, তাহলে বিজেপি আগামী দিন প্রশান্ত রায়ের বিরুদ্ধে ভাববে।

বিজেপির ঘাটাল পূর্ব মন্ডলের সভাপতি বিশ্বজিৎ জানা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা এখনো চলছে। ৫ নম্বর অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেস এভাবেই আমাদের কর্মীদের মারধর করছে। যদি এই ঘটনার সুরাহা না হয় তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন করবো। ঘাটাল থানায় অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি।
ঘটনাস্থলে ঘাটাল থানার ওসি দেবাংশু ভৌমিক গিয়েছিলেন।

এই বিষয়ে পাপিয়া বলে, আমার দাদা যেহেতু বিজেপি করে তাই প্রশান্ত রানা এবং শ্রীকান্ত রানা আমাকে বলতো তুলে নিয়ে চলে যাবে। এর আগেও আমার দাদাকে ওরা বাড়িছাড়া করেছে এবং আমার বাবা মাকে মারধর করেছে। আজ ওরা আমাকে মারধর করে রাস্তায় আছাড় দেয়।

পাপিয়ার দাদা শম্ভু রানা বলেন, এর আগেও আমার বোনের শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করেছিল প্রশান্ত রায়ের দলবল।

এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা প্রশান্ত রায় বলেন, বিজেপির কর্মীরা এলাকায় কতগুলি মাইক সেট ভাঙ্গচুর করে প্ররোচনা সৃষ্টি করে। এরপর সাধারণ গ্রামবাসীরা এই ঘটনার প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। এর সাথে তৃণমূল কংগ্রেস যুক্ত নয়।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here