পুজো দিতে গিয়ে বাঁকুড়ায় আক্রান্ত বিজেপি বিধায়কের স্বামী, শ্বশুর ও মেয়ে, অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৮ আগস্ট: পাড়ার মন্দিরে মনসা পুজো দিতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন বিজেপির শালতোড়া বিধানসভার বিধায়ক চন্দনা বাউরির স্বামী, মেয়ে ও শ্বশুর।ঘটনাস্হলে বিধায়ক হাজির হলে তাকে লক্ষ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এই ঘটনায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বিধায়ক। অভিযোগ অস্বীকার করেছে গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব।

বুধবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বিধায়কের বাড়ি বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটি থানার কেলাই গ্রামে। এই ঘটনায় পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বৃহস্পতিবার গঙ্গাজলঘাঁটি থানার দ্বারস্থ হন চন্দনা বাউরি। তার অভিযোগ তৃণমূলের তরফে হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে এই হামলার অভিযোগকে অস্বীকার করে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লক সম্পাদক তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি নিমাই মাজি।

শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরি বৃহস্পতিবার গঙ্গাজলঘাঁটি থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার গ্রামে মনসা পুজো হচ্ছিল। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ গ্রামের মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন তার স্বামী শ্রাবণ বাউরি, মেয়ে বর্ণা ও শ্বশুর সুনীল বাউরি। অভিযোগ, সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দা দীনেশ বাউরি ও অষ্টম বাউরি সহ বেশ কয়েকজন মিলে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালায়। স্বামী শ্রাবণ ও শ্বশুর সুনীল বাউরিকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। গন্ডগোলের খবর পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে ছুটে ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা তাকেও অশ্লীল ভাষায় গালাগালি দিতে দিতে পালিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গঙ্গাজলঘাঁটি থানায় হাজির হয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিধায়ক। বিধায়কের দাবি, তৃণমূলের মদতেই এই হামলা চালিয়েছে দুষ্কৃতিরা। তিনি বলেন, তার নিজস্ব নিরাপত্তা দেখার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতিতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বিধায়ক।

বিধায়কের অভিযোগ নস্যাৎ করে তৃণমূলের ব্লক সম্পাদক নিমাই মাজি বলেন, বিধায়ক তাদের পাড়ার মানুষদের সাথে মিলেমিশে থাকেন না তার উপরে বিধায়ক হিসাবে এলাকার উন্নয়ন না করায় পাড়ার লোকজন ওনার উপর বেশ অসন্তুষ্ট। তাদেরর সাথে কথা কাটাকাটি হয়ে থাকতে পারে। এর সঙ্গে রাজনীতি বা তৃণমূলের কোনো সম্পর্ক নেই। উনি যদি কারো নামে অভিযোগ করে থাকেন তাহলে পুলিশ তদন্ত করে দেখবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here