বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতি গঠন, বাংলার দায়িত্বে কৈলাস, অরবিন্দ, অমিত-ই, কমিটিতে মিঠুন চক্রবর্তী, আমন্ত্রিত সদস্য রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়

আমাদের ভারত, ৭ অক্টোবর: বিজেপি সংগঠনের জাতীয় স্তরে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব কমেনি বাংলার, সেটা আবারও প্রমানিত হলো। জাতীয় কর্মসমিতির কমিটি ঘোষণা করল বিজেপি। সেখানে বহু বঙ্গ নেতার নাম রয়েছে। বঙ্গ ভোটে লক্ষ্য পূরণে সক্ষম না হলেও বাংলার পর্যবেক্ষক পদে থেকে গেছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনন, অমিত মালব্য। মিঠুন চক্রবর্তী এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে জাতীয় স্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটির বিশেষ আমন্ত্রিতদের তালিকায় আছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী বছরে ৭ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি রাজ্য উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাট। তারপরেই ২০২৪-র লোকসভা ভোট। তার আগে ঢেলে সাজানো হলো বিজেপি জাতীয় সংগঠন।

বাংলার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বিজেপির পর্যবেক্ষক বদল করা হলো না। রাজ্যের পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলার দায়িত্বে রয়েছেন পুরনো ৩ মুখই কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনেন, অমিত মালব্য। কৈলাস ও অরবিন্দ অনেকদিন ধরেই বাংলার দায়িত্বে রয়েছেন। একুশের বিধানসভা ভোটে কয়েক মাস আগে অমিত মালব্যকে বাংলায় পাঠিয়েছিলেন মোদী শাহরা। অমিত মালব্য মূলত বিজেপির আইটি সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। কিন্তু ধীরে ধীরে তাকে মূলধারার সংগঠনের নিয়ে আসছে দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গ।

বাংলায় ক্ষমতা দখল করতে না পারায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছিল ওই তিন নেতাকে ঘিরে। তথাগত রায় থেকে দিলীপ ঘোষ অনেকেই ইঙ্গিত করেছিলেন এই তিন নেতৃত্বের দিকে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন পাল্টেছে। রাজ্যে সেই পুরনো সমীকরণও বদলে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দীর্ঘদিন বাংলায় সংগঠন করার অভিজ্ঞতা কৈলাশ এবং অরবিন্দের রয়েছে। ফলে একদম অন্য নতুন কাউকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠালে তারা জেলা চিনে সংগঠন বুঝতে অনেকটা সময় কেটে যাবে। সম্ভবত সেই কারণেই পুরনো তিনজনকেই দায়িত্বে রেখে দিলো বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম রয়েছে মিঠুন চক্রবর্তীর। এছাড়াও এই তালিকায় বিশেষ আমন্ত্রিত হিসেবে নাম রয়েছে বেসুরো বলে পরিচিত রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রাজীবকে তালিকায় রেখে বিক্ষুব্ধদের বার্তা দিতে চেষ্টা করল বিজেপি।

ন্যাশনাল এক্সেকিউটিভ মেম্বারদের তালিকায় প্রথম নাম অবশ্যই নরেন্দ্র মোদীর। তার নামের পাশে রাজ্য হিসেবে রয়েছে উত্তর প্রদেশ। এছাড়াও রয়েছে লালকৃষ্ণ আদবানী, মুরলী মনোহর যোশীর নাম। এরপরই রয়েছে রাজনাথ সিং অমিত শাহ। ৮০ জনের এই তালিকায় বাংলা থেকে রয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী, দীনেশ ত্রিবেদী, স্বপন দাশগুপ্ত, ভারতী ঘোষ, অনির্বাণ গাঙ্গুলী, মুকুটমণি অধিকারী। তালিকায় রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতিরা‌। আর সেই সূত্রেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে তালিকায় রয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তালিকায় জাতীয় সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) জাতীয় সম্পাদকেরকেও স্থান দেওয়া হয়েছে। এখানেই পরিচিতদের মধ্যে রয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, সুনিল দেওধর, অরবিন্দ মেনন। জাতীয় সম্পাদক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রয়েছেন অনুপম হাজরা। তাকে বিহারে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তালিকায় স্থান পেয়েছেন জাতীয় মোর্চার পদাধিকারীরা। বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী উপমুখ্যমন্ত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন।

বিশেষ আমন্ত্রিতরা রয়েছেন এই তালিকায়। এই তালিকায় দিল্লি প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট সুব্রত সাহা। তিনি বিধানসভা নির্বাচনে রাসবিহারী থেকে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রয়েছে সাংসদ জয়ন্ত রায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক অশোক লাহিড়ী, সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী, সাংসদ রূপা গাঙ্গুলী, মাহফুজা খাতুন। জাতীয় মুখপাত্র হিসেবে তালিকায় রয়েছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা।

পরিষদীয় নেতা হিসেবে তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে আছেন শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি হিসেবে তালিকায় রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।‌ রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তালিকায় আছেন অমিতাভ চক্রবর্তী। ৫০ জন বিশেষ আমন্ত্রিত এবং ১৭৯ স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য রয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বাইরে তালিকায় নতুন যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম, মধ্যপ্রদেশের নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, দিল্লি থেকে এস জয়শঙ্কর, মিনাক্ষী লেখি, হিমাচলপ্রদেশ থেকে অনুরাগ ঠাকুর, ওড়িশা থেকে অশ্বিনী বৈষ্ণব।

তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, চৌধুরী বীরেন্দ্র সিং, এস এস আলুওয়ালিয়া,বরুণ গান্ধী, মানেকা গান্ধী ও সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। সাম্প্রতিককালে বরুণ গান্ধী বেশকিছু ইস্যুতে বেসুরো হিসেবে উঠে এসেছেন। মনে করা হচ্ছে তারা ফলশ্রুতিতে তিনি তালিকা থেকে বাদ পড়লেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here