ত্রিপল বিতরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তমলুক পৌরসভার সামনে বিজেপির বিক্ষোভ

আমাদের ভারত পূর্ব মেদিনীপুর, ২৬ মে: ত্রাণের ত্রিপল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তাম্রলিপ্ত পৌরসভার সামনে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি।

গত কয়েকদিন ধরে তমলুক পৌরসভার থেকে আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রিপল বিলি করা হচ্ছিল। সেই মতো এদিন সকাল থেকে তাম্রলিপ্ত পৌরসভার সামনে ভিড় জমান পুর এলাকার মানুষজন। কিন্তু বেলা গড়িয়ে গেলেও পৌরসভার গেট খোলেনি। ত্রিপল দেওয়াও বন্ধ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ভিড় জমানো মানুষজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিক্ষোভে সামিল হয় বিজেপি নেতৃত্বও। পৌরসভার সামনে রাস্তায় বসে চলে বিক্ষোভ।

বিক্ষোভকারীরা জানান, আমফানের তান্ডবে গোটা জেলার সাথে সাথে তমলুক ও পার্শ্ববর্তী রূপনারায়ন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ি ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু মানুষ মাথা গোঁজার ঠাই পাচ্ছেন না। বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। গত কয়েকদিন দেওয়ার পর পৌরসভা থেকে জানানো হয় আবার ত্রিপল দেওয়া হবে বুধবার। সেইমতো ত্রিপলের আবেদনকারীরা এদিন সকাল থেকে সাদা কাগজে আবেদন পত্র নিয়ে পৌরসভার সামনে লকডাউন উপেক্ষা করে ভিড় জমান। কিন্তু দেখা যায় পৌরসভার গেট বন্ধ। অনেক বেলা পর্যন্ত গেট না খোলায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা মানুষজন। বিক্ষোভ সামলাতে শেষ পর্যন্ত তমলুক থানার ওসি জলেশ্বর তিওয়ারির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশকে ঘিরেও চলে বিক্ষোভ। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে ধ্বস্তাস্বস্তি শুরু হয়।

অবশেষে পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রশাসক রবীন্দ্রনাথ সেন এর সাথে পুলিশ যোগাযোগ করে। ওসি জলেশ্বর তেওয়ারী আশ্বাস দেন, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে আবেদন নেওয়ার কাজ শুরু হবে। ভেরিফিকেশন এর মধ্যে ত্রিপল দেওয়া হবে। এরপর এই বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ ওঠে।

তমলুক পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন জানিয়েছেন, কাউন্সিলরের কাছে তারা ত্রিপলের জন্য আবেদন করলেও আদতে তা মেলেনি। কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, যে তারা এখন আর ক্ষমতায় নেই পুরো দায়িত্ব রয়েছে পুরপ্রধানের হাতেই।

অন্যদিকে প্রশাসক রবীন্দ্রনাথ সেনের দাবি, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। বিজেপি তাদের কালিমালিপ্ত করার জন্য মানুষের মধ্যে গুজব রটিয়ে এসব করছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here