বিডিওকে গাছতলায় বসানোর হুমকি বিজেপির

বিডিওকে গাছতলায় বসানোর হুমকি বিজেপির

আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ১৮ জুলাই: বিডিওকে গাছতলায় বসিয়ে সেখানে দলীয় অফিস করার হুমকি দিল বিজেপি। বৃহস্পতিবার বিকেলে বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকে ডেপুটেশন দিতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করেন সম্পাদক মানস বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর কাটমানি ইস্যুতে উত্তাল রাজ্য। প্রতিদিন বীরভূম জেলার কোথাও না কোথাও তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ঘেরাও চলছে। সেই ইস্যুকে হাতিয়ার করে বীরভূমের ব্লকে ব্লকে স্মারকলিপি দেয় বিজেপি। প্রতিটি ব্লকে বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা জমায়েত হয়ে দশ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেয়। তবে এলাকা ভিত্তিতে স্থানীয় দুর্নীতি নিয়েও সরব হয় বিজেপি। বিজেপির এই আন্দোলনে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। নলহাটি ১ নম্বর ব্লকে ডেপুটেশনে নেতৃত্ব দেন দলের জেলা সহ সভাপতি শুভাশিস চৌধুরী। শুধু কাটমানি ইস্যু নয়, একশো দিনের কাজে স্বচ্ছতা ফেরানোর দাবি জানানো হয় ডেপুটেশনে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় কাটমানি নেওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত প্রাপকদের বাড়ি দিতে হবে। জনগনের রায়ে পঞ্চায়েত সমিতি গঠন হয়নি। তাই পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির প্রতিনিধি রাখতে হবে। বলে দাবি করে বিজেপি।

অন্যদিকে ময়ূরেশ্বর ১ নম্বর ব্লকের মল্লারপুর অফিসের সামনে জমায়েত হন। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমকি দেন দলের ব্লক সম্পাদক মানস বন্দ্যোপাধ্যায়। অফিসের বাইরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানসবাবু বলেন, বিডিও অফিসে যদি বিধায়কের অফিস হয় তাহলে আমরাও এখানে বিজেপির পতাকা ঝুলিয়ে অফিস করা হবে। সেক্ষেত্রে বিডিওকে গাছতলায় তুলে বসানো হবে”।

মানসবাবুর দাবি, এলাকার বিধায়ক ময়ূরেশ্বর ব্লককে নিজের অফিস বানিয়ে ফেলেছে। তাই আমরা দাবি করেছি যদি বিধায়ক বিডিও অফিসে বসে তাহলে আমরাও বসব।

বিডিও গোরাচাঁদ বর্মণ বলেন, “এধরণের কোনও মন্তব্য আমি শুনিনি। আর এই চত্বরে বিধায়কদের কোনও অফিস নেই। শুধু কর্মাধ্যক্ষদের অফিস রয়েছে”।

রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের কাষ্ঠগড়া পঞ্চায়েতেও বিজেপির পক্ষ থেকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। সেখানে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সঞ্জয় দত্তের দুর্নীতি নিয়ে সরব হয় বিজেপি। অভিযোগ অঞ্চল সভাপতি নিজে একজন স্কুল শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কখন নিজে কখন স্ত্রীকে পঞ্চায়েত সমিতিতে সদস্য কিংবা কর্মাধ্যক্ষ থাকার সুবাদে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন। দুর্নীতির টাকায় অট্টালিকা বানিয়েছেন”।

যদিও সঞ্জয় দত্ত বলেন, “অভিযোগ ঠিক নয়। আমার সুনাম নষ্ট করতে এসব বলা হচ্ছে”। রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকে তাপস রায়ের নেতৃত্বে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 14 =