২১ জুলাই কলকাতা থেকে ফিরে বুদবুদে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা, পাল্টা তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙ্গচুর, উত্তেজনা

২১ জুলাই কলকাতা থেকে ফিরে বুদবুদে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা, পাল্টা তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙ্গচুর, উত্তেজনা

আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ২২ জুলাই: আবারও উত্তপ্ত বুদবুদ। ২১ জুলাই সমাবেশ থেকে ফিরে বিজেপি কর্মীদের ওপর দফায় দফায় হামলার অভিযোগে। পাল্টা তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙ্গচুর চালানোর অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। সোমবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল বুদবুদের সূর্যসেন পল্লী এলাকায়। ঘটনায় দুপক্ষের জনা দশেক আহত হয়েছে।

 
উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচন থেকে উত্তেজনার পারদ ধিক ধিক করে জ্বলছিল। ২১ জুলাই সমাবেশ থেকে ফিরতেই সেই উত্তাপ আরও যেন ছড়িয়ে পড়ল। ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে। পাড়ার এক যুবক বাড়ি ফেরার সময় তাকে তৃণমূলের কিছু লোকজন মারধর করে। তাতে আপত্তি তোলে গৌতম বিশ্বাস নামে বিজেপি কর্মী। অভিযোগ আপত্তি তোলাতে গৌতম বিশ্বাসের ওপর চড়াও হয় তৃণমূলের লোকজন। জখম অবস্থায় তাকে মানকর গ্রামীন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। পরদিন অর্থাৎ সোমবার সকালে গৌতম বিশ্বাস, তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা মারধরের প্রতিবাদ জানাতে গেলে আবারও তাদের বাড়িতে তৃণমূল কর্মীরা চড়াও হয় বলে অভিযোগ।

গৌতমের স্ত্রী সোমা বিশ্বাস জানান,” আমার স্বামী বিজেপি করে। পাড়ায় কোনও রকম অশান্তি হতে দিতে চায় না। তৃণমূলের উপপ্রধান রুদ্র প্রসাদ ওরফে মনা কুন্ডুর নেতৃত্বে পাড়ার কয়েকজন মহিলাদের উপর প্রায় অত্যাচার চালায়। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট। রবিবার রাতে ও সোমবার সকালে ছোট মেয়ে থেকে শুরু করে বয়স্কা মহিলাকে পর্যন্ত মারধর করেছে। ৮-১০ জন আহত হয়েছে। এর সুবিচার চাইছি।” আহতদের মানকর গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে গৌতম বিশ্বাসকে ভর্তি করা হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে দুপুর নাগাদ বুদবুদ থানায় ঘটনার অভিযোগ জানাতে যায়। অভিযোগ থানার সামনে তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙ্গচুর করে। খবর পেয়েই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। 

তৃণমূলের গলসী-১ নং ব্লক সভাপতি জাকির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,” ২১ জুলাই সমাবেশে যাওয়ায় এলাকার তৃণমূলকর্মীদের মারধর, বাড়ি ভাঙ্গচুর করেছে বিজেপি। উপপ্রধামনকে মারধর করেছে। তান্ডব শুরু করেছে। প্রতিবাদে আন্দোলনে নামবে তৃণমূল।”

গৌতম বিশ্বাসের ওপর হামলা কেন? বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য সহদেব রায় জানান,” গৌতম ভাল সংগঠক। ওই এলাকায় তৃণমূলের উপপ্রধানের অমানবকি অত্যাচারে পাড়ার লোকজন গৌতমের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছে। সেটাই তৃণমূলের গাত্রদাহ। তাই 
২০১৫ সালে একবার হামলা চালিয়েছিল। এখন আবারও তার ওপর আক্রমন করছে তৃণমূল।” তৃণমূলকর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” উপপ্রধান পুলিশ ঢুকতেই নাটক করছে। এমনকি তার অনুগামী কয়েকজন মহিলারাও। পার্টি অফিস ভাঙ্গার ঘটনায় বিজেপি কোনও ভাবে জড়িত নেই। ওসব নিজেরা ভেঙ্গে, ষড়যন্ত্র করে বিজেপি কর্মীদের ফাঁসানো হচ্ছে।ভোটের দিন ভোট দেওয়া সাধারণ মানুষকে ধারাল দাঁ দিয়ে কুপিয়েছিল ওই তমণমূলের মনা কুন্ডু ও তার দলবল। তৃণমূলের এই নোংরা রাজনীতির তীব্র প্রতিবাদ করছি। অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হলে আন্দোলন করব।”

অন্যদিকে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বুদবুদ থানার পুলিশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 + 1 =