বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল করতে নারাজ, মারধর করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে গেল বনগাঁর তৃণমূলের প্রভাভশালি নেতার অনুগামীরা!

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১১ জুন: বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল করতে হবে। তৃণমূল নেতাদের এই কথা অমান্য করায় এক বিজেপি কর্মীকে খুন করার চেষ্টা করল বনগাঁর প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যের অনুগামীরা এমনই অভিযোগ বিজেপির। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার বিএসএফ ক্যাম্প চত্বরে ভবানিপুর রোডে। আহত বিজেপি কর্মীর নাম সুতনু দেবনাথ। আশঙ্কা জনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতায় পাঠানো হয়। এই ঘটনার পর বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল ও বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বিশ্বজিত দাসের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল করে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি তুলে বনগাঁ থানা ঘেরাও করে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, সুতনু দেবনাথ দীর্ঘ দিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে উন্নয়ন মূলক কাজকর্ম করছিলেন। এমনকি লকডাউনের মধ্যে প্রচুর অসহায় মানুষের সাহায্য করেছেন। এবং গ্রামের মানুষের বিপদে আপদে সব সময় পাশে থাকে সুতনু। সুতনুর স্ত্রী পূজা দেবনাথের অভিযোগ, সম্প্রতি জয়ন্তপুর পঞ্চায়েতে তাঁর স্বামীকে আটকে তৃণমূল নেতারা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিতে বলে। সুতনু তৃণমূলে যোগ দিতে অস্বীকার করে। আর তারপর থেকেই বেশ কয়েকবার তাকে মারার পরিকল্পনা করে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। এমনকি দুষ্কৃতীরা ফোনে খুন করে দেওয়ার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ। এদিন সকালে সুতনু বাজার করতে বাড়ি থেকে বের হয়। সেই সময় বনগাঁর প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যের অনুগামীরা তাঁকে বাঁশ লোহার রড ও কোদালের আছারি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। মারের আঘাতে সুতনুর ডান হাত ও ডান পা ভেঙ্গে যায়। মাথায় কোদালের একাধিক কোপ মেরে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। স্থানীয়রা তাঁকে তড়িঘড়ি বনগাঁ মহকুমা হাসপাতলে নিয়ে গেলে চিকিৎসকদের পরামর্শে কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর সুতনুর স্ত্রী বনগাঁ থানায় ১০ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বিজেপির জেলা সহসভাপতি দেবদাস মণ্ডল ও বিধায়ক বিশ্বজিত দাসের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল করে বনগাঁ থানার ঘেরাও করা হয়। থানায় ঢুকতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বেশ কিছু সময় ধস্তাধস্তি চলে। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দিষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কার নির্দেশে দুষ্কৃতীরা এই কাজ করেছে তার তদন্ত করতে হবে।

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here