লকডাউনে রক্তের সংকট, পিংলার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর পাশে মেদিনীপুরের যুবক

আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ১৭ এপ্রিল: দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। বর্তমান সময়ে হাতে গোনা কয়েকটি রক্তদান শিবির হওয়ায় বাড়ছে রক্তের সংকট। আর এই অবস্থায় সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের পরিবার-পরিজনেরা। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত দশবছরের কন্যা সন্তান রিয়া সিংকে নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন পিংলা লক্ষীবাড়ি গ্রামের আদি বাসিন্দা এবং বর্তমানে কর্মসূত্রে কেশপুরের রাউতায় অবস্থানকারী প্রাথমিক শিক্ষক দম্পতি রবীন্দ্রনাথ সিং ও তপতী ঘোড়াই সিং। প্রায় দেড় মাস ছাড়া ছাড়া ‘এ প্লাস’ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন হয় খাসবাড় হাইস্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রিয়ার।

গত বুধবার মেয়ের জন্য রক্তের জরুরি প্রয়োজনের কথা জানিয়ে ফোনে আনন্দপুরের বিবেকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ সিং যোগাযোগ করেন চুয়াডাঙ্গা হাইস্কুলের শিক্ষক তথা সমাজকর্মী সুদীপ কুমার খাঁড়ার সাথে।রক্তদান আন্দোলনের কর্মী সুদীপবাবু তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করেন ক্রিড়া ও সমাজসেবী সংগঠন ‘মাসা’র সভাপতি পূর্ণেন্দু শেখর কালীর সাথে। মেদিনীপুর শহরের পাহাড়িপুরের বাসিন্দা পূর্ণেন্দুবাবু আগেই রক্তের চাহিদা সংক্রান্ত সুদীপবাবুর একটি ফেসবুক পোষ্টে রেসপন্স করে জানিয়ে রেখেছিলেন তাঁর রক্তের গ্রুপ ‘এ প্লাস’এবং তিনি রক্তদানে আগ্রহী। সুদীপবাবুর ফোন পেয়ে রক্তদানে রাজি হয়ে যান পূর্ণেন্দুবাবু। রবীন্দ্রনাথ বাবুর সাথে পূর্ণেন্দু বাবুর যোগাযোগ করিয়ে দেন সুদীপ বাবু। সেইমতো শুক্রবার সকাল ১০ টায় মেদিনীপুর ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্তদান করেন পূর্ণেন্দু শেখর কালী।

রক্তদাতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রিয়ার পিতামাতা প্রাথমিক শিক্ষক দম্পতি রবীন্দ্রনাথ সিং ও তপতী ঘোড়াই সিং। অভিনন্দন জানিয়েছেন মাসার সম্পাদক গৌতম ভকত সহ অন্যান্যরা। সোস্যাল মিডিয়ায় পূর্ণেন্দুবাবুকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন নেটিজনেরা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here