দুই ফুলের নেতাদেরই রনংদেহি মেজাজ, মমতার খেলা হবে-র পাল্টায় সুকান্ত’র ঝাণ্ডার সঙ্গে ডান্ডার নিদান

শ্রীরূপা চক্রবর্তী
আমাদের ভারত, ১৬ আগস্ট: আগামী ৭ সেপ্টেম্বর নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে বিজেপি। সে দিনের মিছিলে দলের কর্মীদের ঝান্ডার সঙ্গে ডান্ডা রাখার বার্তা দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। এদিকে মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে যেমন খেলা হবে দিবস পালন করছে তৃণমূল তেমনি দলের নেতাদের কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে হেনস্থার অভিযোগে বিক্ষোভ শুরু করার ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারই পাল্টা সুকান্তর হুঁশিয়ারি, পুলিশ ছাড়া খেলতে আসুন।

পার্থ অনুব্রত গ্রেফতার হতেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধীরা। দুর্নীতি তদন্তে তৃণমূল অভিযুক্তদের পাশে থাকবে না বলে জানালেও বিজেপির বিরুদ্ধে কর্মীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন মমতা। রবিবার একটি সভা থেকে নাম না করেও মমতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন। একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে বলেছিলেন ১৬ আগস্ট খেলা হবে তো?

নেত্রীর নির্দেশ মতো মঙ্গলবার ১৬ আগস্ট রাজ্যের অন্য এলাকার পাশাপাশি কলকাতাতেও পথে নামে তৃণমূল। মানিকতলা থেকে রাজাবাজার পর্যন্ত মিছিলে নকল শুভেন্দুর কোমরে দড়ি পরিয়ে মিছিল হয়। ঠিক যেভাবে সম্প্রতি বিজেপি পার্থ, অনুব্রতর মুখোশ পরিয়ে দলীয় কর্মীদের কোমরে দড়ি বেঁধে ঘুরিয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপিও পাল্টা আক্রমণাত্মক হওয়ার রাস্তায় যাচ্ছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতির অভিযোগ, খেলা হবে দিবসের নাম করে সন্ত্রাস চালানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল। তার বিরুদ্ধে আজ সকালে রাজ্যপালের কাছেও গিয়েছিলেন তিনি।বেলায় উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে হুঁশিয়ারি দেন সুকান্ত মজুমদার। সেখানে প্রথমে একটি বাইক মিছিলে অংশ নেন। মিছিল শেষে দলীয় কর্মীদের রক্তদান শিবিরে যান। সেখানে সুকান্ত বলেন, ৭ সেপ্টেম্বর নবান্ন অভিযানের ঝান্ডার সঙ্গে ডান্ডা রাখতে হবে। তার কথায় সংবিধান আত্মরক্ষার অধিকার আমাদের সকলকে দিয়েছে। আর ঝান্ডা তো ডান্ডা ছাড়া নেওয়া যায় না।
মমতাকে উদ্দেশ্য করে সুকান্ত বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বারবার খেলা হবে বলছেন। আমি বলছি যদি ময়দানে খেলতে চান তবে পুলিশ ছাড়া খেলবেন আসুন।”

কিন্তু তৃণমূল দাবি করেছে, ১৬ আগস্ট খেলা হবে দিবস আসলে রাজ্য সরকারের কর্মসূচির অঙ্গ। সেই কারণেই মঙ্গলবার কৃষ্ণনগরের সংসদ মহুয়া মৈত্রকে শাড়ির সাথে স্নিকার পরে ফুটবলের শর্ট মারতে দেখা গেছে।

কিন্তু সুকান্তের বক্তব্য, ১৬ আগস্ট গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস ডে বলেই এই দিনটিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খেলা দিবস হিসেবে বেছেছেন।

এদিকে পার্থ অনুব্রত গ্রেপ্তারের পরই তৃণমূলের নেতাদের চোরের তকমা দিয়েছে বিরোধীরা। বিজেপি তাদের কর্মসূচির নাম দিয়েছে চোর ধরো জেলে ভরো। যদিও এর পাল্টায় চুঁচুড়ার তৃণমূলের বিধায়ক অসিত মজুমদার স্লোগান দিয়েছেন, “অভিষেকের নামে কুৎসা হলে ধোলাই হবে, পেটাই হবে।” শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “যেভাবে সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি নোংরামি করছে তাতে আমাদের সেদিনই বলা উচিত ছিল বদলার বদলে বদলা নিতে হবে।” অন্যদিকে তৃণমূলের প্রবীণ সংসদ সৌগত রায় আরো একধাপ এগিয়ে বলেছেন, “যারা আমাদের বেশি নিন্দা করছে তৃণমূলের সেই সমালোচকদের গায়ের চামড়া দিয়ে পায়ের জুতো তৈরি হবে। এদিন অপেক্ষা করছে।

দুই ফুলের নেতৃত্বে এই গরমাগরম বক্তব্যে উত্তপ্ত এখন রাজ্য রাজনীতি। দুই শিবিরই মনোবল চাঙ্গা করতে উদ্যোগী। বিজেপির লক্ষ্য ক্ষমতা দখল, আর তৃণমূলের লক্ষ্য ভাবমূর্তি রক্ষা। কে নিজের লক্ষ্যে সফল হয় তা সময় বলবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here