অনুপ্রবেশ আটকাতে হিলিতে কাঁটাতারের বেড়া দেবার তোড়জোড়, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে প্রশাসনের বৈঠক বিএসএফের সঙ্গে

অনুপ্রবেশ আটকাতে হিলিতে কাঁটাতারের বেড়া দেবার তোড়জোড়, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে প্রশাসনের বৈঠক বিএসএফের সঙ্গে

আমাদের ভারত, বালুরঘাট, ২১ আগস্ট: অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া হাতে বার্তা কেন্দ্রের। সেই বার্তায় নড়েচড়ে বসল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। হিলির উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ রুখতে দ্রুততার সাথে কাঁটাতারের বেড়া দেবার প্রক্রিয়ায় বিএসএফকে নিয়ে মাঠে নামল জেলা প্রশাসন। জমি অধিগ্রহনের মাধ্যমে সীমান্তে দ্রুততার সাথে সেই কাজ সম্পন্ন করতে সোমবার বিএসএফের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। যেখানে জেলা শাসক নিখিল নির্মল, ভূমি সংস্কার দপ্তরের বিভিন্ন আধকারিক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের আধিকারিকরা।

তিনদিক বাংলাদেশ সীমান্ত বেষ্টিত জেলা দক্ষিণ দিনাজপুর। জেলায় ২৫২ কিলমিটার বর্ডার এলাকার মধ্যে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা উন্মুক্ত। যেখানে এখনো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সম্ভব হয়নি। যে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোরা চালান সহ অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে হিলি সীমান্তে। হিলির দক্ষিণপাড়া অনুপ্রবেশকারীদের অন্যতম করিডর হিসাবে চিহ্নিত। কাটাতার না থাকায় একপ্রকার অবাধেই চলে ওপারের বাংলাদেশীদের আনাগোনা। দালালদের হাত ধরে ওই এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ একপ্রকার অবাধেই বলা চলে। বিএসএফ ও পুলিশের হাতে কিছু ধরা পড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা নাগালের বাইরেই চলে যায়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের তথ্য ধরে এই অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে উঠেপড়ে লাগে কেন্দ্রর স্বরাষ্ট্রদপ্তর। যার নিরিখে এই বিশাল উন্মুক্ত সীমান্ত এলাকায় শুরু হয় ঘেরা দেবার তোড়জোড়। বছর খানেক আগে সরজমিনে খতিয়ে দেখে যার একটি তদন্ত রিপোর্টও জমা দেয় কেন্দ্রীয় এক প্রতিনিধি দল। আর যারপরেই এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন বিএসএফকে নিয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করে।

জেলা প্রশাসন সুত্রের খবর অনুযায়ী, ৫৯ একর জমি প্রয়োজন রয়েছে ঘেরার জন্য। যার মধ্যে প্রায় ২১ একর জমি ইতিমধ্যে অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে বিএসএফ। বাকি প্রায় ৩৮ একর জমি অধিগ্রহণ করতে জরুরী পর্যায়ে প্রশাসনের বৈঠক বলে জানা গেছে।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে বিএসএফ আধিকারিকরা কোনঈ বক্তব্য দিতে না চাইলেও এডিএম এল আর প্রণব কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, কাঁটা তারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রায় ২৫ কিমি এলাকা অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে। নদীর অবস্থান সহ বিভিন্ন দিক দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + seventeen =