পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, প্রতিক্রিয়া

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ২৫ জানুয়ারি: বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শেষ পর্যন্ত পদ্মভূষণ নেবেন কি না, মঙ্গলবার রাতে শুরু হয়ে যায় জল্পনা। অসুস্থ অবস্থায় আক্ষরিক অর্থেই গৃহবন্দি বুদ্ধদেববাবু। তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মান দেবার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। রাতেই তিনি জানিয়ে দেন পুরস্কার নেবেন না।

বুদ্ধবাবু বলেন, “পদ্মভূষণ পুরস্কার নিয়ে আমি কিছুই জানি না, আমাকে এই নিয়ে কেউ কিছু বলেনি। যদি আমাকে পদ্মভূষণ পুরস্কার দিয়ে থাকে তাহলে আমি তা প্রত্যাখ্যান করছি।“

প্রস্তাব পাবার পর দল কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। বুদ্ধবাবুর প্রতিক্রিয়া জানার আগেই সাংসদ তথা সিপিএম আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য এই প্রতিবেদককে প্রশ্নের উত্তরে ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি যতটা জানি বুদ্ধদা এই পুররস্কার নেবেন না। নেওয়া উচিতও নয়। দুটি কারণ। প্রথমত, যে সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে, মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন তৈরিকরে, তাদের স্বীকৃতি না নেওয়াই ভাল। দ্বিতীয়ত, কল্যাণ সিংকে দেওয়া হয়েছে ‘পদ্মবিভুষণ’। যাঁর বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার মূল অভিযোগ ছিল। আর বুদ্ধদাকে ‘পদ্মভুষণ’?

বর্ষীয়ান শিক্ষাবিদ তথা প্রাক্তন উপাচার্য ড. পবিত্র সরকার পুরস্কার ঘোষণার ঠিক পরে প্রশ্নের উত্তরে এই প্রতিবেদককে বলেন, “বুদ্ধবাবুর একটা আদর্শ আছে, যা এই সরকারের আদর্শের সঙ্গে মেলে না। বলা যেতে পারে বিপরীতমুখী দর্শন। বুদ্ধবাবু আগাগোড়া ওঁদের বিরোধিতা করে এসেছেন। আমার ব্যক্তিগত মত, এই পুরস্কার না নেওয়ার।

কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন ডিজি দীপঙ্কর সিংহ এই প্রতিবেদককে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে মানুষের জন্য কাজ করেছেন, আত্মত্যাগ করেছেন। আমার মনে হয়েছে, কোনো পুরস্কারের আশা নিয়ে তিনি এই কাজ করেননি। অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ তথা সারা দেশের ক্ষেত্রেই এক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হিসেবে মানুষের কাছে শ্রদ্ধা পেয়েছেন। এই আদর্শবাদী মানুষকে পদ্ম পুরস্কার দিয়ে মূল্যায়ন করতে যাওয়া একটি ভুল ভাবনা। তিনি ইতিমধ্যেই এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমি এই ভেবেও অবাক হচ্ছি, যে সরকার নানাভাবে মানুষকে বিভাজন করার পথে হাঁটছে, মানুষের জীবন জীবিকার বিপদ সৃষ্টি করছে, মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, তারা কেনো একজন বামপন্থী নেতাকে পুরস্কৃত করতে চাইছে? এটাও সন্দেহের।“

এখানে একটি তথ্য তুলে ধরা জরুরি। মনমোহন সিং নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার জ্যোতি বসুকে ভারতরত্ন দিতে চেয়েছিল। প্রত্যাখ্যান করেছিলেন জ্যোতিবাবু। সাংবাদিকদের বলেছিলেন, কমিউনিস্টরা পুরস্কারের জন্য কোনও কাজ করে না। এর আগে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত ইএমএস নামবুদ্রিপাদ প্রথম প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *