পূর্ব মেদিনীপুরে করোনার সংক্রমণ রোধে অভিযান

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৫ অক্টোবর: পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় করোনা পরীক্ষা বাড়িয়ে দেওয়ার পরেও সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ছে। ইতিমধ্যে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি সংক্রমিতদের মধ্যে গত ছয় দিনে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝি জানান, ক্রমশ সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আজ সোমবার থেকে করোনা মোকাবিলায় জেলাজুড়ে রাস্তায় নেমেছে পুলিশ প্রশাসন।

জেলাশাসক জানান, দিঘার হোটেল ও লজগুলিতে সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী পঞ্চাশ শতাংশ ঘর ফাঁকা রেখে পর্যটকদের রাখা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে, কালীপুজোর আগে এমনিতেই জেলায় সংক্রমণ বাড়তে থাকায় চাপ বাড়ছে জেলা প্রশাসনের। নন্দকুমার ও তমলুকে মোটা অঙ্কের বাজেটের কালী পুজোয় আকর্ষণীয় থিমের চমক দেখতে ব্যাপক ভিড় হয়। দুর্গা পুজোর মতো কালি পুজোতেও দর্শনার্থীরা উপচে পড়া ভিড় করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। পুজোর আগে পনেরো-কুড়ি জনের সংক্রমণ ধরা পড়লেও পুজো শেষ হতেই নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলায় গত সপ্তাহে চল্লিশ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে অর্থাৎ পুজোর পর সংক্রমণ দ্বিগুণ হয়েছে। পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও যেখানে প্রতিদিন গড়ে দশ জন ভর্তি হতেন এখন তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রের খবর। পুজো শেষ হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় করোনা পরীক্ষা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও করোনা পরীক্ষা দ্বিগুণ করা হয়েছে। এর ফলে সংক্রমিতদের সংখ্যাও বাড়ছে।

প্রথম অবস্থায় সংক্রমিতদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে হলদিয়া, এগরা, তমলুক হাসপাতালে। তাদের অবস্থার অবনতি দেখা দিলে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাললে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। এই হাসপাতালেই শনিবার দাসপুর এবং সুতাহাটা ব্লকের দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এভাবে গত ছয় দিনে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। ময়না, পাঁশকুড়া, চন্ডিপুর, পটাশপুর, ভগবানপুর ও এগরাতে সাম্প্রতিক বন্যায় দুর্গতদের জন্য প্রায় সাড়ে চারশ ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছিল। শিবিরগুলিতে গাদাগাদি করে ছিলেন সত্তর হাজার মানুষ। ভগবানপুর এলাকায় এখনো অনেক মানুষ শিবিরে রয়েছেন। শিবিরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার কিছুই মানা হয়নি। গাদাগাদি করে একসঙ্গে এক জায়গায় এত মানুষ থাকার ফলে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here