মেয়ের চাকরিতে নিয়োগ নিয়ে জালিয়াতি, রাজ্যের মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ, মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর সুপারিশ আদালতের

আমাদের ভারত, ১৭ মে: নিজের মেয়ের চাকরিতে জালিয়াতির অভিযোগে মঙ্গলবার শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীকে সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। মন্ত্রীর মেয়ে অঙ্কিতা ২০১৮ সালের মেখলিগঞ্জে স্কুলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষিকার চাকরি পেয়েছিলেন। তার নিয়োগ নিয়ে সেই সময় অভিযোগ উঠেছিল। চার বছর পর সেই মামলায় মঙ্গলবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে যতদিন না ওর ব্যাপারে কিছু প্রমাণ হচ্ছে ততদিন পরেশকে মন্ত্রিসভার বাইরে রাখা হোক।

যে সময় পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা স্কুলের শিক্ষিকার চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন সেই সময়ে তিনি মন্ত্রী ছিলেন না। সেই সময় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পরেশবাবু বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি পার্থবাবুর হাত ধরেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে পরেশ অধিকারীকে কোচবিহার লোকসভার প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া নিশীথ প্রামাণিকের কাছে বিপুল ভোটে হেরেছিলেন তিনি। এরপর একুশের ভোটে মেখলিগঞ্জ বিধানসভায় তাকে প্রার্থী করে শাসকদল। বিধানসভায় জেতেন পরেশ। জেতার পর তাকে ক্যাবিনেটেও জায়গা দেওয়া হয়।

আজ সিঙ্গেল বেঞ্চ সিবিআই নির্দেশ দেওয়ার পরে আর ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানানোর সুযোগ হয়নি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর। কারণ ততক্ষণে কোর্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী তিনি সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন। সঙ্গে তার মেয়েও আছে।

এমনিতেই স্কুল সার্ভিস নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকারের কার্যত নাস্তানাবুদ অবস্থা। বাগ কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে তা দেখে বিরোধীদের অনেকেই বলছেন, এটা আরও একটা বড় কেলেঙ্কারি। তাতে বলা হয়েছে
এসএসসি গ্রুপ সি নিয়োগে যে ৩৮১ জনের চাকরি হয়েছিল তাদের মধ্যে ২২২ জন পরীক্ষার্থী বসেননি। এবার চার বছর আগে একটি নিয়োগের মামলাতেও সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এতদিন পর্যন্ত এসএসসি সংক্রান্ত যে মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট সবকটি প্যানেলে নিয়োগ দুর্নীতি। কিন্তু এক্ষেত্রে একটি নিয়োগ নিয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের নজিরবিহীন বলে মনে করছেন অনেকেই।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here