আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে

আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ১২ মে: ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিনে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত হল দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঘোড়ামারায়। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের ছবিতে মালা দিয়ে, মোমবাতি জ্বালিয়ে ও কেক কেটে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। পাশাপাশি এলাকার দুঃস্থ মানুষজনকে ত্রাণ সাহায্য দিয়ে এই দিনটিকে উদযাপন করেন কলকাতার
এসএসকেএম হাসপাতালের একদল নার্স। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ঘোড়ামারা দ্বীপের হাটখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এই আন্তর্জাতিক নার্স দিবস।

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষ্যে কলকাতার
এসএসকেএম হাসপাতালের সিস্টার নাইটিঙ্গেল টিম আসে বিচ্ছিন্ন ঘোড়ামারা দ্বীপে। ঘোড়ামারা দ্বীপের হাটখোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তারা পালন করেন আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। সেই উপলক্ষ্যে ঘোড়ামারা দ্বীপের বাসিন্দাদের হাতে ত্রাণ তুলে দেন। সারা পৃথিবী জুড়ে চলছে নোভেল করোনা ভাইরাসের দাপট। করোনা ভাইরাসের জেরে আক্রান্ত হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। প্রতিদিন ভারতবর্ষেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রমণকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেই মহামারি থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। তার জেরে বন্ধ স্কুল, কলেজ। বন্ধ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, বন্ধ যান চলাচল। তার মধ্যেও করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত মানুষদের দিনরাত পরিষেবা দিয়ে চলেছেন হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা। এত কিছুর মধ্যে নিজেরা আরও একটু বেশি করে যাতে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায় সেজন্য নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ দেওয়ার কথা ভাবেন তাঁরা। কয়েকদিন আগেও দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার মৌশুনী দ্বীপে দুঃস্থ, গরিব মানুষদের হাতে ত্রাণ তুলে দিয়েছিলেন এই নার্স দিদিরা। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষ্যে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মতাদর্শে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আবারও ঘোড়ামারা দ্বীপে আসেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষ্যে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিন পালনের পাশাপাশি এলাকার দুঃস্থ ও গরিব মানুষদের হাতে মাস্ক ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন। নার্স দিদিদের এই উদ্যোগে খুশি এলাকার সাধারণ মানুষজন।

উদ্যোক্তাদের অন্যতম মিঠু সেন বলেন, “মানুষকে সেবা করাই আমাদের জীবনের লক্ষ্য। আর সেই সেবাকে শুধু হাসপাতালের চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে না রেখে প্রত্যন্ত এলাকার দুঃস্থ মানুষজনের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াকে আমরা সমীচীন মনে করেছি। আর সেই কারণেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি”।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here