বাগিচা আইন সংশোধনের পথে কেন্দ্র, শীতে উত্তপ্ত হতে চলেছে পাহাড়-ডুয়ার্স

বাগিচা আইন সংশোধনের পথে কেন্দ্র, শীতে উত্তপ্ত হতে চলেছে পাহাড়-ডুয়ার্স

তারক ভট্টাচার্য 

আমাদের ভারত, ৮ অক্টোবর: বাগিচা শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে শীতকালীন অধিবেশনেই সংসদে পেশ হতে চলেছে ‘বাগিচা শ্রম আইন সংশোধনী বিল।’ বর্তমান বাগিচা শ্রম আইন তৈরি হয়েছিল ১৯৫১ সালে। সেই আইনে চা শ্রমিকদের সুরক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়নি। সেকথা মাথায় রেখে, এই আইন বদলাতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিবৃতিতে একথা জানিয়েছেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি আবার শ্রম মন্ত্রকের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য। বিস্তার দাবি, নতুন আইনে চা এবং সিঙ্কোনা চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় এবং ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চা বাগান। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে চা শ্রমিকদেরকে বোনাস নিয়ে বঞ্চনার দাবিতে পাহাড়ে আন্দোলন শুরু করেছে বিজেপি। নেতৃত্বে রয়েছেন বিস্তা। লক্ষ্য আরও বড়। পাহাড়ে বিমল গুরুংদের জমানা ফেরানো। সঙ্গে ‘জয় মহাকালী, অয়ো গোর্খালি’ স্লোগান তোলা। 

লড়াই ছাড়তে নারাজ ঘাসফুল শিবিরও। দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতা-কর্মীদের পইপই করে বলে দিয়েছিলেন, ‘পুজোর সময় এলাকা ছাড়বেন না। নিজের এলাকায় চক্কর দিন।’ দুর্গাপুজো শেষ। দেবী অপরাজিতার আশীর্বাদ নিয়ে, এবার রণভূমি পাহাড়-ডুয়ার্সে ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পাহাড়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সেনাপতি জিটিএ কর্তা বিনয় তামাং। তিনি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চা শ্রমিক এবং পাহাড়কে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রিলে অনশনে বসে পড়েছেন। 

পাশাপাশি, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে জলপাইগুড়ির জেলা সভাপতি পদে বসিয়েছেন কৃষ্ণকুমার (কিষেণ) কল্যাণীকে। কিষেণ কল্যাণীর আরও একটা পরিচয় রয়েছে, তিনি শিল্পপতি। একসময়, কিষেণের বাবা গৌরীশংকর কল্যাণীর মালিকানাধীন ছিল মুজনাই, সাহেব বাগান-সহ বিভিন্ন ‘টি এস্টেট’। জলপাইগুড়ি ভাগ হয়ে আলিপুরদুয়ার হতে পারে। কিন্তু, চা বাগান কল্যাণীর অচেনা নয়। বরং হাতের তালুর মতোই চেনা। পাশাপাশি, ব্যবসার সূত্রে জগদ্দল থেকে টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া, কিষেণ কল্যাণীর শাখা-প্রশাখা বহুদূর বিস্তৃত। কারণ, অনেকে বলেন- সুদূর অতীত থেকে টলিউড চলে খনি আর চা বাগানের অর্থে। দাগাদের মতো চা বাগানের  শিল্পপতিরা আজও বাংলা সিনেমার পৃষ্ঠপোষক। তাই, সৌরভ চক্রবর্তীদের মতো কলকাতার রাজনীতিতে বেড়ে ওঠা নেতার বদলে সঠিক ‘ভূমিপুত্র’কে চিনে নিতে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেরি করেননি। 

এই লড়াই তীব্র হয়েছে বিজেপির উপস্থিতিতেই। গত লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গের আসনগুলো পকেটে পুরেছে গেরুয়া শিবির। তার আগে বিধানসভা ভোটে আলিপুরদুয়ারের নাগরাকাটা  দখল করে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গে কাজ চলছে। একল বিদ্যালয় থেকে বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের ছাতার তলায় চলছিল জমি তৈরির কাজ। তাতেই সাফল্য মিলেছে। 

পাহাড় দীর্ঘদিনই হাতে নেই। কিন্তু, ডুয়ার্সের রাজনীতির জমি এত সহজে ছাড়তে নারাজ বামেরা। বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী তাই পুজোর মধ্যেই নবমীতে উত্তরবঙ্গে চলে গিয়েছেন। দিল্লি থেকে ফিরে সপ্তমী আর অষ্টমীতে দলের পুজোয় স্টলগুলোয় ঘুরে সোজা পাড়ি দিয়েছেন উত্তরে ঘর গুছোতে। উত্তরবঙ্গের মাটিতে রাজনৈতিক জমি রয়েছে অন্যতম বাম শরিক আরএসপিরও। দলের নেতা ক্ষিতি গোস্বামী অসুস্থ। খুব বেশি ঘোরাফেরা করতে পারেন না। কিন্তু, সচল রয়েছেন মনোজ ভট্টাচার্যের মতো নেতারা। ফোনে মনোজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূল আর বিজেপির গোপন আঁতাত রয়েছে। বাগিচা সংশোধনী আইনে শ্রমিকদের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত রাখা হবে, তাই নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। তৃণমূল এবং বিজেপির জমানায় বাগিচা শ্রমিকদের যেভাবে অবহেলা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলনে নামতে চলেছি। শুধু উত্তরবঙ্গেই নয়। উত্তর থেকে পশ্চিম-দক্ষিণ, গোটা বাংলা আজ উপেক্ষিত। আমরা রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 + 13 =

amaderbharat.com

Welcome To Amaderbharat.com, Get Latest Updated News. Please click I accept.