চরম বিপদে কলকাতা! এবার শহরে আসছে কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দল

রাজেন রায়, কলকাতা, ৪ মে: করোনা পরিস্থিতি কেমন সামলাচ্ছে রাজ্য, তা খতিয়ে দেখতে প্রথমে ৫ টি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। সারা দেশ জুড়েই এভাবে বিভিন্ন প্রতিনিধি দল পরিস্থিতি খতিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সম্মিলিত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আর সেই সমস্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখে দেশের ২০টি রাজ্যের ২০টি জেলাকে চিহ্নিতকরণ করা হয়েছে। তাতে নাম রয়েছে এই রাজ্যের কলকাতারও। তাই এবার কলকাতাতে বিশেষ পরিদর্শক দল পাঠাচ্ছে কেন্দ্র।

জানা গিয়েছে, কলকাতা ছাড়াও দিল্লির দু’টি জেলা (মধ্য ও দক্ষিণ পূর্ব), মুম্বই, ঠানে, পুণে, সুরাট, জয়পুর, আহমেদাবাদ, চেন্নাই, লখনউ, ইনদওর, গুন্টুর, অন্ধ্রপ্রদেশ, হায়দরাবাদের মতো ২০টি স্থানে ২০টি কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দল পাঠানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় রিপোর্ট অনুযায়ী এই জায়গাগুলির করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক খারাপ। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতেই জায়গাগুলি বেছে নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, করোনা সংক্রমণের হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে কলকাতা সবচেয়ে শীর্ষে।

সম্প্রতি এ রাজ্য সফররত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানায়, রাজ্যে করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর পরিষ্কার হিসেব সামনে আসছে না। সীমিত পরিমাণ পরিকাঠামো নিয়ে রাজ্যের চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীরা চেষ্টা চালালেও বিভিন্ন রাজ্য সরকারি নিয়ম-নীতির ফাঁসে
নাজেহাল হয়ে পড়ছেন। তাই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী ও আধিকারিকদের সহায়তা করতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ২০টি পরিদর্শক দল গঠন করেছে। দেশের ২০ জেলার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ওই বিশেষ কেন্দ্রীয় দলগুলিকে নির্দিষ্ট করে পাঠানো হচ্ছে। ওই জায়গাগুলিতে আরও বেশি করে যাতে কনটেনমেন্ট বিধি বলবৎ হয় এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তার জন্য কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দল রাজ্যকে সাহায্য করবেন বলে পিআইবি-র বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, কলকাতার জন্য নিযুক্ত দলে থাকছেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ-এর প্রধান মধুমিতা দুবে এবং এই সংস্থারই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লীনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আঞ্চলিক ডিরেক্টররা কেন্দ্রীয় দলের গতিবিধি ঠিক করবেন। মহামারি নিয়ন্ত্রণে এভাবেই কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে কাজ করতে চায় ওই সমস্ত কেন্দ্রীয় পরিদর্শক দল। যদিও রাজ্য তাদের কতটা স্বাধীনতা দেবে, সেটা এখনো নবান্নের তরফ থেকে পরিষ্কার জানা যায়নি।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here