কোয়ারেন্টাইনে থাকা পরিচারিকা অনাহারে, জানাজানি হতেই পাশে দাঁড়াল বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, বনগাঁ, ৯ মে: কোয়ারেন্টাইনে থাকা এক পরিচারিকাকে এক ঘরে করে রাখার খবর পেয়ে, ওই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য। এদিন ওই দুঃস্থ অসহায় পরিবারের বাড়িতে জল সহ খাদ্য সামগ্রী পাঠালেন শঙ্করবাবু। এছাড়াও শনিবার ৬০ হাজার পরিবারের হাতে কল্পতরু প্রকল্পের রান্না করা খাবার তুলেদেন তিনি।

দিন কয়েক আগে বনগাঁর কালীবাড়ির বাসিন্দা এক গৃহবধূ কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই বাড়িতেই কাজ করতেন বনগাঁর শক্তিগড় কালীবাড়ির বাসিন্দা মিনতি শীল। প্রশাসন ও বনগাঁ পৌরসভার পক্ষ থেকে ওই পরিচারিকা মিনতি শীল সহ তার পরিবারের লোকজনদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসন ও পৌরসভা থেকে তাদের জল ও খাবারের দায়িত্ব নেওয়া হয়। সেই মতো প্রথম দিন দু’ বোতল জল ও খাবার দেওয়া হয়। দুদিনের মধ্যে সেই খাবার ও জল শেষ হয়ে যায়। পানীয় জলের জন্য কান্নাকাটিও করেন বলে জানান প্রতিবেশীরা।

মিনতি শীলের অভিযোগ, আশপাশের কয়েকজন প্রতিবেশী তাদের উপকার করা তো দূরে থাক ঘরের বাইরে বেরলেই তাদের শুনতে হচ্ছে তোমরা পাপ করেছ তাই ফল ভোগ করছ। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ান। তিনি বলেন, একটা অসহায় পরিবার। পেটের দায়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে পেট চালান। অন্যের জন্য তিনি ও তার পরিবার আজ কোয়ারেন্টাইনে আছে। প্রতিবেশীদের এমন উক্তি ক্ষমার অযোগ্য। এরপর এমন অভিযোগ আসলে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পৌরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যকে অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে, দুঃস্থ অসহায় পরিচারিকার মিনতি শীল বলেন, বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান আমার পাশে না থাকলে অপমাণেই ঘরে মরতে হত। তিনি খাবার পাঠানোর পর সেই সব প্রতিবেশীদের মুখ বন্ধ হয়েছে। এছাড়াও কয়েক জন জল ও কিছু খাবার দিয়েছেন। আজ পরিবার নিয়ে শান্তিতে আছি।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here