হিলিতে পণের দাবিতে স্ত্রীর উপর অত্যাচার, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৪ জুন: হিলিতে পণের দাবিতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করার চেষ্টার অভিযোগ এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। বিয়ের পর থেকে তিনবছর ধরেই লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাবার অভিযোগও উঠেছে ওই সিভিকের বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র সংসার করতে চেয়েই এতদিন কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি আক্রান্ত মহিলা মর্জিনা খাতুন। অত্যাচারের মাত্রা চরমে পৌঁছাতেই বুধবার অভিযুক্ত স্বামী কুদ্দুস মন্ডল ও শ্বশুর শাশুড়ির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অসহায় ওই মহিলা। এদিন সরকারি কাজে বালুরঘাটে উপস্থিত থাকায় হিলি থানার ওসি প্রীতম সিং জানিয়েছেন, বিষয়টির খোঁজ নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রেজিস্ট্রি করার দুই মাস পর মুসলিম ধর্ম মেনে বিয়ে সম্পন্ন হয় মর্জিনা খাতুন ও কুদ্দুস মন্ডলের। কুদ্দুস পেশায় হিলি থানায় সিভিক ভলান্টিয়ারের পদে কর্মরত। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর শাশুড়ির কথামতো ৬ লক্ষ টাকা পণের দাবিতে মর্জিনার উপর অত্যাচার শুরু করে কুদ্দুস। বিষয়টি জানিয়ে হিলি থানায় অভিযোগ করতে গেলেও সেই সময় অভিযোগ না নিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। গত ২১ তারিখ রবিবার ফের টাকার দাবিতে মারধর করা হয় মর্জিনাকে। শুধু তাই নয় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে খুনের চেষ্টা করেছে কুদ্দুস। ঘটনার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেললে খবর পেয়ে মর্জিনার বাবার বাড়ির লোকেরা তাকে উদ্ধার করে হিলি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে বাবার বাড়িতেই আছেন তিনি। এদিন একপ্রকার বাধ্য হয়ে হিলি থানায় ওই সিভিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত মহিলা। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই সিভিক ভলান্টিয়ার।

আক্রান্ত মহিলা মর্জিনা খাতুন জানিয়েছেন, সিভিকের কাজ করে বলে অভিযোগ জানালেও কোন কাজ হবে না বলে তাকে ভয় দেখাতো কুদ্দুস। আর যার ফলে দিনের পর দিন অত্যাচার বাড়ছিল তার উপর। এদিন বাধ্য হয়ে হিলি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি চান তাদের সকলের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হোক।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here