শহরের কোভিড পজিটিভ প্রবীণদের জন্য পুরসভা-পুলিশকে বিশেষ সমীক্ষার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

রাজেন রায়, কলকাতা, ৬ আগস্ট: শহরের বস্তি এলাকা থেকে আরম্ভ করে সাধারণ বাড়িগুলিতে কে কোথায় করোনা পজিটিভ আছেন, তার খবর জোগাড় করতে পারছে রাজ্য প্রশাসন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে শহরের বিভিন্ন আবাসনগুলিকে ঘিরে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে বস্তি এলাকা থেকে আবাসনে সংক্রমণের হার বেশি আর এদের মধ্যে অনেকেই প্রবীণ প্রবীণা। সবচেয়ে বড় কথা, আবাসনের মধ্যে থাকার ফলে তাদের অসুস্থতার কথা জানতে পারছেন না অনেকে। তাই তাদের কথা জানতে পুলিশ পুরসভাকে যৌথ উদ্যোগে সমীক্ষা করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন নবান্নের সাংবাদিক সম্মেলনের সময় নিজে থেকেই একটি প্রয়োজনীয় বিষয় উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তার এলাকায় এক প্রবীণ নাগরিকের কোভিড পজিটিভ হলেও কিন্তু আবাসনের কেউই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। এমনকি আবাসনে থাকার কারণে কেউ জানতেও পারেনি। এদিকে বৃদ্ধের দুই মেয়ে অধ্যাপক ঘটনা জানতে পেরে প্রথমে বাড়িতে ছুটে আসে। বড় মেয়ে সোজা কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে এসে সাহায্য চান। ঘটনার কথা জানতে পেরেই ওই বৃদ্ধ করোনা রোগীকে সাহায্য করার জন্য
কালীঘাট থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন। কালীঘাট থানার ওসি নিজে দায়িত্ব নিয়ে ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

এই কারণে এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, পুলিশ ও পুরসভার যৌথ উদ্যোগে কলকাতা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আবাসনে একা থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। কলকাতা পুলিশের প্রণাম প্রকল্পে ইতিমধ্যেই বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মহামারীর আগে নেতাজি নগরে একটি খুনের ঘটনার পর পুলিশ নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়ে সারা শহরে একাধিক বৃদ্ধ বৃদ্ধার তথ্য সংগ্রহ করেছিল। সেই তথ্য মিলিয়ে থানা ভিত্তিক হাউসিং অ্যাসোসিয়েশনের কমিটিগুলির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আবাসনে থাকা বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে ভার্চুয়াল মাধ্যমেও পুলিশ ওই বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের সঙ্গে বা কমিটিগুলির সঙ্গে কথা বলতে পারে। এক্ষেত্রে কোভিড ওয়ারিয়র্স ও স্বেচ্ছাসেবীদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন মমতা। তাদের মাধ্যমে আবাসনগুলিতে পালস অক্সিমিটার বিতরণ করার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here