বুধবার রাস্তায় না নামলে সরকার চালক দিয়ে চালাবে বেসরকারি বাস, হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

রাজেন রায়, কলকাতা, ৩০ জুন: ভর্তুকি ঘোষণা করে অনুরোধের নরম সুরে কাজ না হওয়ায় এবার বেসরকারি বাস প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার।
বুধবার থেকে রাস্তায় বেসরকারি বাস না নামালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, প্রয়োজনে বেসরকারি বাস নিয়ে চালক দিয়ে সেই বাসই চালানো হবে। এক্ষেত্রে বেসরকারি বাস চালক বেতন ভিত্তিতে তার বাস চালাতে চাইলে ভাল, না হলে সরকারি চালক চালাবেন বেসরকারি বাস।

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া ভাষাপ্রয়োগের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিল না বাসমালিক সংগঠনগুলি। স্নায়ুর লড়াইয়ে নিজেদের দাবি আদায়ের চেষ্টা করলেও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানে কার্যত দিশাহীন দেখিয়েছে বাসমালিক সংগঠনের নেতৃত্বদের। এবার তাঁরা কি সিদ্ধান্ত নেবেন, তা তাঁদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়নি।

এদিকে লকডাউনে বাস না চলার ফলে বিপুল অঙ্কের ক্ষতির মুখোমুখি বেসরকারি বাসমালিক সংগঠনগুলি। আনলক ওয়ানের প্রথম দিকে কিছু সংখ্যক রুটে সামান্য বাস চলছিল। যদিও অফিসমুখী সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে যত আসন, তত যাত্রী নীতিতে রাস্তায় বেসরকারি বাস নামানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বাসমালিক সংগঠনের একাংশের দাবি করেন, বাসভাড়া না বাড়ালে বাস নামানো সম্ভব নয়। কারণ যত আসন, তত যাত্রী নীতিতে বাস চালিয়ে লাভের মুখ তো দূর, বাস চালানোর খরচও ওঠা সম্ভব নয়। আর লাভ না হওয়ায় বারবারই বাস রাস্তায় না নামানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বেসরকারি বাসমালিকরা।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে বাস ভাড়া বাড়ানো সম্ভব নয়। পরিবর্তে আপাতত ১৫ হাজার টাকা করে বাসপিছু ভর্তুকি দেওয়া হবে বেসরকারি বাসমালিকদের। কিন্তু তাতেও রাজি হননি বাসমালিকরা। সরকারের ‘উৎসাহ ভাতা’ কখনই ভাড়া বৃদ্ধির বিকল্প হতে পারে না, তা জানিয়ে দিয়েছিল বাস মালিক সংগঠন।

কিন্তু এবার সব প্রশ্ন পেরিয়ে ১ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা স্থির করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর রাস্তায় বাস না নামালে বিপর্যয় মোকাবিলা আইন অনুযায়ী সরকারই চালকের ব্যবস্থা করে বেসরকারি বাস রাস্তায় নামাবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘ডিজেলের দাম কমলে তো ভাড়া কমানো হয় না। তাহলে দাম বাড়লে ভাড়া বাড়ানোর দাবি কেন?’ ভর্তুকির কথা মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘টাকা না থাকা সত্ত্বেও সরকার ২৭ কোটি দিতে রাজি ছিল। যাতে মানুষের পকেট থেকে বাড়তি না যায়। আপনারা ইগোর লড়াই বন্ধ করুন।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই স্টেপ আউটের বদলে এবার বাসমালিকরা কি সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here