জঙ্গলমহলে ফের মাওবাদী অশান্তি রুখতে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ৭ অক্টোবর:
জঙ্গলমহলে মাওবাদীরা যাতে ফের অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন ঝাড়গ্রামে নোংরা রাজনীতি হচ্ছে। বাইরে থেকে টাকার বান্ডিল নিয়ে ঝাড়গ্রামে ডুকছে বহিরাগতরা। পুলিশকে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঝাড়গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করেন সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়। এদিনের প্রশাসনিক সভায় মাটির সৃষ্টি, পথশ্রী, করোনা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জেলাশাসক এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি পর্যালোচনায় অংশ নেন। মাটির সৃষ্টি প্রকল্পে জেলায় একশ সাত একর জমিতে কাজ হয়েছে এবং চারশো আশি জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে জেলাশাসক জানান।

রাজ্যের মুখ্য সচিব জানান, এই প্রকল্পে পতিত জমিতে মৎস্য চাষ, মুরগির খামার ও বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করার কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মাটির সৃষ্টি প্রকল্প একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই প্রকল্পে রাজ্যে আড়াই লক্ষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে  এবং প্রকল্পটি রাজ্যকে তথা দেশকে পথ দেখাবে।

পথশ্রী প্রকল্প প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পে বারো হাজার কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরি ও সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার টেন্ডার করে এ রাস্তা তৈরি করবে। প্রতিটি গ্রামকে এই প্রকল্পে যুক্ত করা হবে। এক্ষেত্রে কোনও রকম বাধা বরদাস্ত করা হবে না। 

জেলার করোনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই জেলা ঝাড়খন্ড রাজ্য সীমান্তে অবস্থিত এবং জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে চেন্নাই মুম্বাইয়ের লরি চলাচল করে। লরি চালক ও খালাসীরা রাস্তার ধারে ধাবায় বসে খাওয়া-দাওয়া করছে। এছাড়াও জেলার গ্রাম অঞ্চলের মানুষ অধিকাংশই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। এর ফলে দিনের পর দিন সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে চলেছে। তিনি প্রশাসনের এবং পুলিশ আধিকারিকদের বলেন, যাদের মাস্ক কেনার ক্ষমতা নেই তাদের মাস্ক দিন এবং তার গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝান। জেলায় এগারো হাজার পাঁচশ ষাট জন কোমরবিডিটিতে আক্রান্ত শুনে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, এত মানুষ আক্রান্ত কেন? বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, জঙ্গলমহলের চার হাজার পাঁচশো জুনিয়র কনস্টেবলকে কনস্টেবল পদে উন্নীত করা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলায় মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পর্যটন কেন্দ্র করে দেওয়া হয়েছে। মাওবাদীদের বুঝিয়ে  সমাজের মূল স্রোতে এনে মানুষের জন্য কাজ করতে পুলিশের চাকরি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও সমস্ত মানুষের বিনা পয়সায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পড়াশোনার জন্য স্কুল-কলেজ যথেষ্ট পরিমাণে করা হয়েছে। সাধারণ এবং আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে এবং সমস্ত শ্রেণির মানুষ যাতে ষাট বছরের পর পেনশন পান সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিধবা ভাতা বার্ধক্য ভাতা এবং কৃষি ভাতা এক হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পে দশ লক্ষ বাড়ি তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সকালে কনক-দুর্গা মন্দিরে পুজো দিয়ে দুপুর সাড়ে বারোটার পর প্রশাসনিক পর্যালোচনা সভায় যোগ দেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here