ভিন রাজ্য থেকে আসায় মা ও ছেলের ঘরে ঢুকতে বাধা, ঠাঁই শশ্মানে

আমাদের ভারত, হাওড়া, ১১ জুলাই: ভিন রাজ্য থেকে আসায় এলাকায় করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে এই আশঙ্কায় মা ও ছেলেকে ঘরে থাকতে দিল না প্রতিবেশীরা। শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় কোথাও থাকতে না পেরে শেষে ছেলেকে নিয়ে শশ্মানে আশ্রয় নিলেন মহিলা। অবশেষে রবিবার বিকেলে পুলিশের হস্তক্ষেপে ওই মহিলা বাড়িতে ঢুকতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, দিল্লির বাসিন্দা মহুয়া মুখার্জি শুক্রবার বিকেলে তার ১৪ বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে রাজাপুর থানার বুড়ির বাঁধে তাদের বাড়িতে আসে। যদিও মা ও ছেলের থেকে এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে এই আশঙ্কায় প্রতিবেশীর তাদের এলাকায় থাকতে বাধা দেয়। প্রতিবেশীদের বাধায় মহুয়া দেবী তার ছেলেকে নিয়ে পাঁচলা থানার সাহাপুরে বাবার কাছে গেলে সেখানেও তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়। পরে একপ্রকার বাধ্য হয়ে মহুয়াদেবী ছেলেকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন এবং চারিদিকে ঘোরাঘুরি করেও কোথাও থাকতে না পেরে শেষে পূর্ব বাসুদেবপুরের একটি শশ্মানে আশ্রয় নেয়। যদিও মহুয়াকে একা না ছেড়ে তার বাবা ও ভাইও শশ্মানে রাত কাটায়।

এদিকে শনিবার সকালে মহুয়া তার ছেলেকে নিয়ে স্থানীয় কুলাই স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়ে পাঁচলা থানায় গিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়। যদিও মহিলার অভিযোগ, পুলিশ তাকে কোনও রকম সাহায্য করেনি। মহিলার অভিযোগ, শুক্রবার বিকেল থেকেই দুটি এলাকার মহিলারা তাকে থাকতে বাধা দিয়েছে এমনকি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সরকারি নির্দেশ মানতে রাজি হয়নি তারা।

অন্যদিকে বুড়ির বাঁধের বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহিলার বাবা সাহাপুরে থাকলেও সে সেখানে না গিয়ে এখানে আসায় আমরা বাধ্য দিয়েছি। অপরদিকে সাহাপুরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহিলার বুড়ির বাঁধে বাড়ি থাকলেও সে সেখানে না থেকে এখানে থাকতে আসায় আমরা বাধা দিয়েছি।

এদিকে মহিলা ও তার ছেলেকে নিয়ে টানাপোড়েনের পর বেলা ১২টা নাগাদ রাজাপুর ও পাঁচলা থানার পুলিশ তাদের নিয়ে বুড়ির বাঁধে যায়। যদিও এদিনও পুলিশের সামনে মা ও ছেলেকে এলাকায় ঢুকতে বাধা দেয় প্রতিবেশীরা। পরে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে মা ও ছেলেকে ঘরে ঢোকায়।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here