টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে বেনিয়ম ও স্বজনপোষণের অভিযোগ আড়ষার চাটুহাঁসা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৮ আগস্ট: টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে বেনিয়ম ও স্বজনপোষণের অভিযোগে বান্দোয়ান গ্রাম পঞ্চায়েতের পর এবার শিরোনামে উঠে এল আড়ষা ব্লকের চাটুহাঁসা গ্রাম পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে পুরুলিয়া জেলায় একের পর এক তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধেই মূলত উঠছে টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে বেনিয়ম ও স্বজনপোষণের অভিযোগ।

পুরুলিয়ার আড়ষা ব্লকের অন্তর্গত চাটুহাঁসা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে কলকাতা উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করলেন এলাকার ঠিকাদাররা। এই মামলায় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এবং কার্যনির্বাহী আধিকারিক (এক্সিকিউটিভ অফিসার)-কে আগামী ১৭ আগস্ট টেন্ডারের সমস্ত নথি সহ আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান। ঘটনায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশ্নের মুখে পড়ছে একের পর এক তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি।

টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বেনিয়ম ও স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠছিল তৃণমূল পরিচালিত চাটুহাঁসা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ভবানী মাঝির বিরুদ্ধে। এই নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদাররা স্থানীয় ব্লক প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। শেষমেষ কলকাতা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন এলাকার ঠিকাদাররা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের বিচারপতি অমৃতা সিনহা আগামী ১৭ আগস্ট চাটুহাঁসা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ভবানী মাঝি এবং কার্যনির্বাহী আধিকারিক (এক্সিকিউটিভ অফিসার) সুরজিৎ মণ্ডলকে টেন্ডারের সমস্ত নথি সহ আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ভবানী মাঝি।

মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী সৌগত মিত্র বলেন, “রাজ্য অর্থ দপ্তরের নির্দেশ মতো টেন্ডার ডাকা হয়নি। কোনো প্রথম শ্রেণির খবরের কাগজে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। পঞ্চায়েতের টেন্ডার ওয়েবসাইটেও দেওয়া হয়নি। সমস্ত দিক বিবেচনা করে কলকাতা উচ্চ আদালত চাটুহাঁসা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং এক্সিকিউটিভ অফিসারকে কলকাতা উচ্চ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”

এর আগে সম্প্রতি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বেনিয়মের অভিযোগ তুলে তৃণমূল পরিচালিত বান্দোয়ান গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে কলকাতা উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন এলাকার ঠিকাদাররা। ওই মামলায় উক্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৬২ লক্ষ টাকার ১০ টি কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here