মা কালীর পর এবার বিতর্কে “মাসুম সওয়াল”, স্যানিটারি প্যাডে শ্রীকৃষ্ণের ছবি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ

আমাদের ভারত, ৫ আগস্ট: ডকুমেন্টারি ফিল্মে মা কালীর পোস্টার নিয়ে বিতর্কের পর এবার আরো একটি সিনেমার পোস্টার নিয়ে ধুন্দুমার বিতর্ক শুরু হল। সিনেমার নাম মাসুম সওয়াল। ৫ আগস্ট এই সিনেমার রিলিজ। কিন্তু তার আগে এই বিতর্কে জড়িয়েছে সিনেমাটি। মাসুম সওয়ালের প্রযোজকরা সিনেমার যে পোস্টারটি শেয়ার করেছেন তাতে দেখা গেছে একটি স্যানিটারি প্যাডের ওপরে ভগবান কৃষ্ণের ছবি রয়েছে। আর এই ঘটনাতেই বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।

পোস্টারের ছবির কারণে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। সিনেমা নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনদের একটা বড় অংশ। এই বিতর্কের মুখে পরে সিনেমার ডাইরেক্টর সন্তোষ উপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী একাবলী খান্না বক্তব্য রেখেছেন। ডাইরেক্টর সন্তোষ উপাধ্যায় বলেছেন, “প্রায়শই এমনটা হয় যে, আমরা একই জিনিসকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখি। আর সেই কারণেই বেশ কিছু সময় আমাদের ভুল ধারণাও তৈরি হয়। সিনেমার গল্প মাসিক বা পিরিয়ডসের বিষয়ে। সেই কারণেই পোস্টারে স্যানেটারি প্যাড দেখানো জরুরি ছিল। ”

কিন্তু স্যানেটারি প্যাডের উপর কেন শ্রীকৃষ্ণের ছবি দেওয়া হল? এই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন নেটিজেনরা। অভিনেত্রী একাবলি বলেছেন, “এই বিতর্ক সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্যই ছিল না সিনেমার নির্মাতা ও নির্দেশকদের। তারা কারোর ভাবাবেগেই আঘাত করতে চাননি। তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। মাসিক বা পিরিয়েডস নিয়ে যে সমস্ত কুসংস্কারমূলক চিন্তাভাবনা রয়েছে তার বদল ঘটানোই ছিল আসল উদ্দেশ্য। সমাজ থেকে এই বিষয়ে অন্ধবিশ্বাস দূর করে মহিলাদের ওপর জোড় করে যেনো কোনো নিয়মের বোঝা না চাপিয়ে দেওয়া হয় সেই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে সিনেমায়।

এর আগে ১৮ জুলাই মাসুম সওয়ালের ট্রেলার সামনে আসে। সেখানে দেখা যায় একটি ছোট্ট মেয়ে মিরাবাঈয়ের মত কৃষ্ণকে সব সময় তার সঙ্গে রাখে। সে কৃষ্ণকে নিজের ভাই মনে করে। কারণ তার পরিবারের বড়রাই তাকে বলে যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার ভাই। কিন্তু যখন সে ধীরে ধীরে বড় হয় এবং তার যখন পিরিয়ডস হয়, তখন চার থেকে পাঁচ দিন তাকে কৃষ্ণর থেকে দূরে থাকতে বলা হয়, কারণ সে অশুচি। কিন্তু মেয়েটি কৃষ্ণের থেকে দূরে থাকার এই কারণ মেনে নিতে পারে না। তার কষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত সে এই সমস্যা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here