বাড়িতে বসে নিজেই করতে পারবেন করোনার পরীক্ষা, শীঘ্রই বাজারে আসছে অ্যান্টিজেন কিট

আমাদের ভারত, ২৯ জুন: এবার বাড়িতে বসেই করা যাবে করোনার পরীক্ষা। খোলাবাজারে অ্যান্টিজেন কিট বিক্রির অনুমতি দিতে চলেছে রাজ্য। মুখের ভিতর থেকে বের করা কয়েক ফোঁটা লালারস অথবা নাক থেকে বেরোনো সামান্য সর্দি বা শ্লেষ্মা নিয়ে নিজেই বাড়িতে বসে খালি চোখে পরীক্ষা করে বোঝা যাবে মানুষটি আদৌ করোনায় আক্রান্ত নাকি? হ্যাঁ এমনই একটি টেস্ট কিট এবার আসতে চলেছে রাজ্যের খোলাবাজারে।

আইসিএমআর অনুমোদন প্রাপ্ত এই ম্যাজিক কিটের নাম কোভিড ১৯ অ্যান্টিজেন টেস্ট কিট। এই কিট বিপণনের ছাড়পত্র পেয়েছে দেশের আটটি সংস্থা। ইতিমধ্যেই উৎপাদিত কিটের গুণগত মান যাচাইয়ের পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। সরকার নির্ধারিত গুণমান বজায় থাকলে সংস্থাগুলির কিট বিক্রির অনুমতিও দেবে রাজ্য সরকার।

মূলত উপসর্গহীন ও মৃদু উপসর্গের করোনা ভাইরাস চিহ্নিত করতে এটি কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সব শর্ত ঠিকঠাক মিলে গেলে এক মাসের মধ্যেই এই অ্যান্টিজেন কিট খোলা বাজারে চলে আসবে।

ইতিমধ্যেই এই রকম ১০ হাজার কিট কিনেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। পরীক্ষামূলকভাবে সেগুলি ব্যবহার করাও শুরু হবে। নতুন কিটের মান বজায় রাখতে ব্যবহারের আগে গাইডলাইন মেনে অন্তত -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। কোথায় কত অ্যান্টিজেন কিট বিক্রি হবে আইসিএমআর এর গাইডলাইন মেনে তার যাবতীয় তথ্য থাকবে স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে। তার জন্য তৈরি হবে নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ। সেখানেই তথ্য জমা হবে। রাখা হবে বিক্রি না হওয়া কিটের হিসেবেও। তবে এই কিট বাজারে আসার পর সামগ্রিক বিষয়ের উপর তীক্ষ্ণ নজরদারি থাকবে স্বাস্থ্য দপ্তরের।

কিটের মানে সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতা করা হবে না। তাৎক্ষণিক পরীক্ষার জন্য বেশ কয়েকটি রাজ্যে এই অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে ঘরোয়াভাবে করোনা ভাইরাসের ইনফ্লুয়েঞ্জা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। একটি কিটের দাম এখন সাড়ে চারশো টাকা। তবে একসাথে অনেকগুলো সংস্থার কিট বাজারে চলে এলে দাম অনেকটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ওষুধ সংস্থাও অ্যান্টিজেন কিট তৈরি করছে। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সাইন্সও এই কিট বানিয়েছে।

আইসিএমআরের গাইডলাইন মেনে প্রথমে মেডিকেল কলেজে, সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে কিট। এরপর কনন্টেইনমেন্ট এলাকায় কিট ব্যবহার হবে। তারপরই এর গুণগত মান ও উপযোগিতা কতটা তা স্পষ্ট হবে।

এক্ষেত্রে আরও একটি আশার কথা হল, অ্যান্টিজেন টেস্ট ক্রিকেট থেকে সংক্রমণ সরানোর সম্ভাবনাও কম। কারণ এই পরীক্ষার জন্য রোগীকে ল্যাবরেটরীতে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই এবং পরীক্ষার পর বিধি মেনে কিট নষ্ট করাও তুলনামূলক অনেক সহজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here