আশার আলো! পাঁচ মাসে সবচেয়ে কম করোনায় মৃত্যুর হার

আমাদের ভারত, ১ আগস্ট:ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ লাখ হলেও আশা জাগাচ্ছে সংক্রমণ সেরে ওঠা সুস্থ রোগীর সংখ্যা। তার সাথে ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর হার এক ধাক্কায় অনেকটাই কমেছে। জুনের মাঝামাঝিতে করোনায় মৃত্যুর হার ছিল ভারতের ৩.৩৩ শতাংশ। আজকের হিসেবে সেই হার কমে হয়েছে ২.১৫ শতাংশ। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই কম।

জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকেই ভারতে মৃত্যুর হার কমতে শুরু করে ছিল। কদিন আগেই ছিল ২.৩৩ শতাংশ।আজকের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া বুলেটিনে দেখা গেছে মৃত্যুর হার কমে দাঁড়িয়েছে ২.১৫ শতাংশ।গত ২৪ ঘন্টায় সংক্রমণ সারিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৬৯ জন রোগী। দেশে এখন করোনায় সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ।করোনায় আর রিকভারি রেট ৬৪.৫৩ শতাংশ।

মার্চ মাসে করোনা শুরুর পর থেকে এই প্রথম করোনায় মৃত্যুর হার কমার কারণ টেস্ট, কন্ট্রাক্ট রেসিং, এবং ট্রিটমেন্ট। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে দেশে করোনা পরীক্ষা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনা চিকিৎসায় কি কি ওষুধ ব্যবহার করা হবে কি থেরাপি প্রয়োজন তা জানতে ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট টিম তৈরি হয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয় দেখার জন্য তৈরি হয়েছে টাস্কফোর্স। নিয়মমাফিক ও সুনির্দিষ্ট প্রটোকল মেনেই সব কাজ হচ্ছে।

আইসিএমআর আগেই জানিয়েছিল করোনা সংক্রমণ রোখা যাবে তিনটি টি-এর নিয়মে। টেস্ট, ট্রেসিং ট্রিটমেন্ট অর্থাৎ থ্রি টি-র নিয়ম মেনেই আজ হয়তো তারই ফল মিলছে। করোনা রোগী বা সংক্রমণ রয়েছে সন্দেহে থাকা রোগীদের কাছাকাছি আসাদের শনাক্ত করে আলাদা করা হচ্ছে। যাদের বিন্দুমাত্র সংক্রমনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে তাদের করে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে। দেশজুড়ে চলছে সেরো সার্ভে। রক্তে অ্যান্টিবডি উপস্থিতি ও পরিমাণ দেখে সংক্রমণ কতটা ছড়ালো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার থেকে বোঝা যাচ্ছে কোনো ক্লাস্টারে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হচ্ছে কি না। হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হওয়া মানেই সংক্রমণ নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে যাবে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারবেনা। প্লাজমা থেরাপিও করোনা চিকিৎসায় ভালো কাজ করছে। সন্তোষজনক ফল দেখা গেছে রেমডিসিভির ও ফ্যাভিপিরাভিরে্য মতো ওষুধ প্রয়োগ। আর সেই জন্যেই মৃত্যুর হার কমার সাথে সাথে সুস্থতার হার বেড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here