বুনিয়াদপুরে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু করোনা রোগীর, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন পরিবারের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৮ আগস্ট: কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে এক করোনা আক্রান্ত রোগীর আত্মহত্যার ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য। শনিবার সকালে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশিহারী ব্লকের বুনিয়াদপুর আইটিআই কলেজের ঘটনা। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, মৃত ওই রোগীর নাম অজিত মাহাতো (৪৪)। স্থানীয় ব্রজবল্লভপুর পঞ্চায়েতের ভাইওর গ্রামের বাসিন্দা ছিল সে। যদিও এই ঘটনা নিয়ে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের অব্যবস্থা ও সঠিক নজরদারির দিকেই আঙুল তুলেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা।

জানাগেছে, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ছোট্ট সংসার অজিতবাবুর। গত ৩ আগস্ট নিজের সোয়াব টেস্ট করেছিলেন তিনি। ৫ তারিখে রিপোর্ট এলে তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। যার পরেই ৬ তারিখ বুনিয়াদপুরের রশিদপুর আইটিআই কলেজের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। এদিন সকালে ওই সেন্টারে দাদাকে দেখতে এসে এমন দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন ভাই সুশান্ত মাহাতো। সেন্টারের কাছে একটি জঙ্গলের মধ্যে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন দাদাকে। যার পরে তড়িঘড়ি তাকে পরিষ্কার জায়গায় এনে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের খবর দেন পেশায় সিভিক কর্মী সুশান্ত মাহাতো। চিকিৎসক পৌঁছলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের সকলের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মৃতের ভাই সুশান্ত মাহাতো জানিয়েছেন, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ভাইকে দেখতে এসে তার কাছে পরিষেবা নিয়ে অব্যস্থার কথা শুনেছিলেন। তবে কি কারণে এমন ঘটনা ঘটল তা স্পষ্ট নয়। নজরদারি সঠিক থাকলে এমনটা হতে পারতো না। ঘটনার তদন্ত হওয়া জরুরি।

রশিদপুর আইটিআই কলেজের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষী আজিজার রহমান জানিয়েছেন, তিনি দূর থেকে সকলের উপরই নজরদারি রাখেন। তবে হঠাৎ করে এমন কাণ্ড করে বসবে ওই রোগী তা তিনি ভাবতে পারেননি। ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েই মৃত্যু হয়েছে তার। মানসিক অবসাদ থেকে এমন ঘটনা হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ঘটনা নিয়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মনোতোষ মন্ডল জানিয়েছেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন স্ত্রী সহ দুই সন্তান নিয়ে সংসার অজিত মাহাতোর। করোনা পজিটিভ জেনে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন তিনি। তবে তাদের তরফে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। রোগীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here