শেষ ১ লাখ আক্রান্ত হয়েছে মাত্র ১০ দিনে, করোনা মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ পেরোলো

আমাদের ভারত, ১৩ জুন : প্রথম ১ লাখের গন্ডি পেরোতে সময় লেগেছিল ১১০ দিন। এরপর ১ লাখ থেকে ২ লাখে পৌঁছতে সময় লেগেছে ১৫ দিন। আর ২ লাখ থেকে ৩ লাখে পৌঁছাতে সময় লেগেছে আরো কম, মাত্র ১০ দিন। দেশের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির গ্রাফটা এভাবেই ঊর্ধ্বমুখী। শনিবার দেশের করনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা দেখে চোখ কপালে উঠছে চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ থেকে আমজনতা সকলেরই।

তবে লক্ষ্যনীয় বিষয় ২ থেকে ৩ লক্ষে পৌছানোর সময়টা দেশে লকডাউন চলছিল। কিন্তু এখন লোকাল ট্রেন, মেট্রো কিংবা আন্তর্জাতিক উড়ান বাদ দিলে পুরো অর্থনৈতিক কান্ড পুরোটাই চালু হয়েছে। ফলে এই উর্দ্ধমুখী গ্রাফ কোথায় গিয়ে থামবে তা নিয়ে সন্দিহান সবাই।

প্রতিদিন সংক্রমনের গতিবৃদ্ধি নতুন করে আশঙ্কা তৈরি করছে। আগের দিনের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাচ্ছে পরের দিনের রেকর্ড। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকেল দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৪৫৮ জন। এ পর্যন্ত এটি রেকর্ড। এখনো পর্যন্ত দেশে মোট করণায় আক্রান্ত সংখ্যা ৩লক্ষ ৮হাজার ৯৯৩। তার মধ্যে মহারাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ পেরিয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৮৬ জন। দেশে মোট করণায় মৃতের সংখ্যা ৮৮৮৪। তার মধ্যে মহারাষ্ট্রের মৃত্যু হয়েছে ৩৭১৭ জনের। গুজরাটের মৃত্যু হয়েছে ১২১৪ জনে। শেষ কয়েক দিনের দিল্লিতেও লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে মৃতের সংখ্যা। দিল্লিতে ২১৪ জনের করোনায় মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ দেশের চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এরাজ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪৫১ জনের।

ভারতের প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৩০ জানুয়ারি কেরলে। চীনের উহান থেকে ফিরে ছিলেন সেই ব্যক্তি। তারপর চার মাস কেটেছে। মূলত শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায় । দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকে এই রোগ। যত বেশি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে তত বেশি তার সংস্পর্শে আসা মানুষজনের মধ্যেও সংক্রমনের সম্ভাবনা বাড়বে।আর সেই কারণে ১ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ হওয়া কিংবা ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ হওয়ার সময়সীমা কমে গেছে অনেকটাই।

যে গতিতে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে ৪ লক্ষে পৌঁছাতে আরও কম সময় লাগবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। একাংশের ভাইরাস বিশেষজ্ঞের মতে, ভাইরাসের ক্ষমতার তখনই কমবে যখন সে রোগ ছড়ানোর জন্য আর শরীর পাবে না। মানে শৃঙ্খলা যখন ভাঙবে। গণপরিবহন স্কুল-কলেজ সব বন্ধ রাখলেও বাজার দোকানের ভিড়ের কারণে সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি। একরকম ছুটি কাটানোর মত করেই লকডাউন কাটিয়েছেন একটা অংশের মানুষ। আজ হয়তো তার খেসারত দিতে চলেছি আমরা। দেশজুড়ে লকডাউনের ফলে অর্থনৈতিকভাবেও ধাক্কা লেগেছে। কিন্তু লকডাউন করেও সার্বিক শৃঙ্খল ভাঙ্গা যায়নি ভাইরাসের। যে সমস্ত দেশে করোনাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে তারা আসলে শৃঙ্খলটাকেই ভেঙে ফেলেছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here