ঠিক সময় ঠিক সিদ্ধান্ত ভারতের, কলকাতা সহ ৩ শহরে রোজ ১০০০০ কোভিড টেস্টের ল্যাব উদ্বোধনে দাবি মোদীর

আমাদের ভারত, ২৭ জুলাই: সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ভারত যথেষ্ট ভাল পরিস্থিতিতে রয়েছে। সোমবার নয়ডা, মুম্বাই ও কলকাতায় আইসিএমআর এর টেস্টিং ল্যাবরেটরি ভার্চুয়াল উদ্বোধনে এসে এই কথাই জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে দ্রুত হারে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঠিক সময় ঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে ভারত অন্য দেশের তুলনায় ভাল অবস্থায় রয়েছে। ভারতে সুস্থতার হার অনেক বেশি মৃত্যুর হারের চেয়ে। ভারতের সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাও ১০ লক্ষ ছুঁতে চলেছে। দেশে করোনা চিকিৎসার পরিকাঠামো দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল। আর সেই জন্যই কেন্দ্র সরকার করোনা মোকাবিলায় ১৫ হাজার কোটি টাকা প্রথমেই বরাদ্দ করে বলে জানান তিনি।

প্রতি নিয়ত দেশে বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ। আর এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে একমাত্র পথ প্রচুর পরিমাণে টেস্ট করা। করোনা রোগীদের খুঁজে বের করে আইসোলেট করা। সেই লক্ষ্যে আজ দেশের তিনটি শহরে আইসিএমআরএর তিনটি অত্যাধুনিক করোনা টেস্ট ল্যাব উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নয়ডা, মুম্বইয়ের সাথে কলকাতার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ কলেরা এন্ড এন্টেরিক ডিজিজে এই ল্যাব গুলি খোলা হয়েছে। এই ল্যাব গুলিতে রোজ ১০০০০ করোনার স্যাম্পল টেস্ট করা সম্ভব। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এরই আজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন এই ল্যাবে শুধুমাত্র করোনা টেস্টই হবে না। ভবিষ্যতে অন্যান্য রোগের টেস্টও হবে, যেমন হেপাটাইটিস-বি, এইচআইভি, ডেঙ্গুর মত পরীক্ষা হবে ল্যাব গুলিতে।

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে দেশে ১১০০০ হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা চলছে। ১১ লাখ আইসোলেশন বেডের ব্যবস্থা হয়েছে। দেশে ১৩০০ ল্যাবে করোনা টেস্ট হচ্ছে। ওইসব ল্যাবে রোজ পাঁচ লাখ স্যাম্পল টেস্ট হচ্ছে। তবে লক্ষ্য প্রতিদিন ১০ লক্ষ টেস্ট করা।”

প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন,”৬ মাস আগেও দেশে কোন পিপিই কিট তৈরি হতো না। সেখানে এখন বারোশো সংস্থার রোজ পাঁচ লাখ পিপিই কিট তৈরি করছে। n95 মাস্ক একসময় বাইরে থেকে আনতে হতো এখন রোজ ৩ লাখ n95 মাস্ক তৈরি হচ্ছে। এই সব ক্ষেত্রে ভারত আজ আমদানিকারির বদলে রপ্তানিকারি দেশে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দেশের একটাই প্রতিজ্ঞা হওয়া উচিত তাহলে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে হবে। করোনা সংক্রমণ আটকাতে আরও উন্নত পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। দেশের বিজ্ঞানীরা দিনরাত এক করে ভ্যাকসিন তৈরীর চেষ্টা করছেন। যতদিন না ভ্যাকসিন বাজারে আসে ততদিন আমাদের সাবধানে থাকতে হবে। মাস্ক পরতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here