রাতারাতি উধাও প্রতারিত সংস্থা! প্রতিবাদে বাড়ি ভাঙ্গচুর ও পুলিশের সঙ্গে খন্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্র কুমারগঞ্জ, লাঠিচার্জ ও ফাটল কাঁদানে গ্যাস

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৫ জানুয়ারি: রাতারাতি উধাও প্রতারিত সংস্থা। প্রতিবাদে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ প্রতারিত মহিলাদের। চলল লাঠিচার্জ ও কাদানে গ্যাসও। বুধবার দুপুর থেকে এই ঘটনাকে ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের ডাঙারহাট এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে শূন্যে গুলিও ছুড়তে হয়েছে কয়েক রাউন্ড। যদিও গুলি ছোড়ার বিষয় অস্বীকার করা হয়েছে পুলিশের তরফে। ঘটনার জেরে রক্তাক্ত হয়েছেন প্রায় সাতজন পুলিশ কর্মী। যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। আহত হয়েছেন বেশকিছু গ্রামবাসীও।

জানা যায়, কুমারগঞ্জের ডাঙ্গারহাট এলাকার বাসিন্দা মুর্তুজ সরকারের বাড়ি ভাড়া নেয় একটি প্রতারিত সংস্থা। যারা গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর করবার লক্ষ্যে ১৫০০ টাকা করে জমা নেন রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য। পরিবর্তে একটি করে শাড়ি, পুঁথি ও আঠা দেওয়া হয়। শাড়ির উপর যে পুথিগুলি লাগাতে পারলেই চারশো টাকা করে মজুরি দেবে শাড়ি প্রতি, এমনটা জানানো হয় সেই প্রতারিত সংস্থার তরফে। যে হিসাবে কুমারগঞ্জ ব্লকের হাজার হাজার মহিলা টাকা জমা দিয়ে অংশ নেন সেই কাজে। কিন্তু এরই মধ্যে রাতারাতি চম্পট দেয় সেই প্রতারিত সংস্থা। বুধবার এলাকার মহিলারা তাদের শাড়ি জমা দিতে এসে ওই প্রতারিত সংস্থার অফিস বন্ধ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। চলে বিক্ষোভ ও বাড়ি ভাঙ্গচুর। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌছেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারেনি কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। নামানো হয় র‍্যাফ ও কমব্যাট ফোর্স। চলে উত্তেজিতদের উপর লাঠিচার্জ। আর এরপরেই পুলিশকে লক্ষ্য করে পালটা ইট ও বাঁশ ছুড়তে থাকেন মহিলারা। যার আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী। আহত হয়েছেন বেশকিছু গ্রামবাসীও। যারা কুমারগঞ্জ গ্রামীন হাসপাতাল ও বালুরঘাটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি আরো উত্তেজিত হতেই পুলিশকে ছুড়তে হয় কাদানে গ্যাসও। কিন্তু তাতেও বাসিন্দারা শান্ত না হওয়ায় শুন্যে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়তে হয়েছে পুলিশকে বলে সুত্রের খবর। যদিও গুলি ছোড়ার বিষয় পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে পুলিশের তরফে। এদিন এমন ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় ছুটে গেছেন জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে সহ জেলার অনান্য পুলিশ কর্তারাও। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।

প্রতারিত মহিলারা বলেন, তাদের কাজ দেবার নাম করে টাকা নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। যে কাজে বাড়ি মালিকও যুক্ত রয়েছে। তারা চান টাকা ফেরত।

যদিও এদিনের ঘটনা নিয়ে এখনও সাংবাদিকদের সামনে মুখ খুলতে চাননি জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here