বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশ, নিজামউদ্দিনের ধর্মীয় সমাবেশের জন্যেই

আমাদের ভারত, ৩১ মার্চ: করোনা সতর্কতাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে খোদ রাজধানীর বুকে হয়েছে ২০০০ মানুষের ধর্মীয় সমাবেশ। আর সমাবেশের কারণে সারা দেশে নেমে আসতে পারে বিপর্যয় মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়েও। ওই ধর্মসভা থেকে বেরিয়ে বহু মানুষ দেশে বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ধর্মসভায় যাওয়া ধর্মগুরুরা আবার ওখানে থেকে বেরিয়ে অন্য রাজ্যে ফিরে ধর্মসভা করেছেন। এই ধরনের ধর্মসভা পশ্চিমবঙ্গেও হয়েছে বলে শোনা গেছে।

এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করা ২৭ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়। মৃত্যুও হয়েছে ৬ জনের। আপাতত ৩০০ জন রয়েছে সন্দেহের তালিকায়। তবে এই তালিকা আরও দীর্ঘায়িত হবার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ শুধুমাত্র সভায় অংশগ্রহনকারীরা ৩০ টির বেশি বাসে করে ফিরে গেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আর করোনাকে বয়ে নিয়ে গেছেন নিজেদের সঙ্গে। নিজামুদ্দিনের সভার পর থেকেই করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা গেছে দক্ষিণ দিল্লির অগণিত মানুষের মধ্যে।

এমনকি এই ধর্মসভায় ভারতের বাইরের বিভিন্ন দেশের অতিথিরাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া থেকে ধর্মগুরুরা এসেছেন। আর যেই সময় এই ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয় সেই সময় ওই দেশগুলিতে করোনারি ভালোই প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। আর সেখান থেকে অবলীলায় এদেশে পাড়ি দিয়েছেন অনেকে। কোনো স্ক্রিনিংও হয়নি। আবার এই ধর্মীয় সভার শেষে সেইসব অতিথিরা ভারতের একাধিক প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে চলে যান।

লক ডাউনের আগে এবং পরে যখন বিভিন্ন রাজ্যে করোনাভাইরাস এর আক্রান্তদের খবর পাওয়া যাচ্ছে তখন কিছুসংখ্যক ব্যক্তির ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের অনেকেই মার্চের ওই ধর্মীয় সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ফলে দুয়ে দুয়ে চার করতে বেশি দেরি হয়নি প্রশাসনের।

আন্দামান নিকোবর থেকে ওই সভায় আসা ৯জন এবং তাদের মধ্যে একজনে স্ত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। ওই ধর্মীয় সভা থেকে ফিরে এসে তেলেঙ্গানায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশকিছু মানুষ। তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। ওই ধর্মসভা থেকে তেলেঙ্গানায় গিয়েছেন বেশকিছু ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা ধর্মপ্রচারকও। তাদের মধ্যে ১০ জনের দেহে রয়েছে করোনা ভাইরাস। ওই জামাতের সভা থেকেই শ্রীনগরে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এক ধর্মগুরু। তার দেহ করোনাভাইরাস এর হদিস পাওয়া যায়। গত সপ্তাহে তার মৃত্যু হয়। এই সমস্ত সূত্র এক জায়গাতেই মিলে যেতেই নড়েচড়ে বসে দিল্লির প্রশাসন। যেখানে এই ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সবাই এক জায়গায় স্নান করেছেন। এক জায়গায় বসে খেয়েছেন। এমনকি ঢোকার ও বেরোনোর রাস্তাও সেখানে খুব সরু। ফলে সংক্রামিত হবার সম্ভাবনা প্রবল।

ফলে এই ধর্মীয় সভায় আসা ব্যাক্তিদের মাধ্যমে মারণ ভাইরাস দেশের বিভিন্ন কোনায় পৌঁছে গেছে বলে ঠাহর করতে পেরেছে প্রশাসন।

আপাতত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই সভায় যারা সংস্পর্শে এসেছেন তাদের খোঁজ করার চেষ্টা চলছে। যাদের খোঁজ মিলেছে তাদের প্রত্যেককে কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়। রক্তের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিজামুদ্দিনের পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ দিল্লির বহু মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের প্রাথমিক উপসর্গগুলো দেখা দেওয়ায় পুরো এলাকাগুলি সিল করে দেওয়া হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here