পর পর নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় উত্তপ্ত দিল্লি

আমাদের ভারত, ১ সেপ্টেম্বর: টফি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাশের জিন্স তৈরীর কারখানার শ্রমিকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী দিল্লির প্রসাদনগর থানার অন্তর্গত বাপানগর এলাকায়। ঘটনা সামনে আসতেই বেধড়ক পেটানো হয় অভিযুক্তকে এবং অবশেষে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, শিশুটি প্রায়শই বাড়ির পাশে সেই কারখানা ও তার আসেপাশের এলাকায় খেলাধুলা করে। মঙ্গলবার টফি দেওয়ার নাম করে অভিযুক্ত শ্রমিক শিশুটিকে ভেতরে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। শিশুটি বাড়ি ফিরে তার মা বাবাকে সে কথা জানায়। সঙ্গে সঙ্গে শিশুর পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা অভিযুক্তকে ধরে মারধর করে। ওই মারধরের ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা যায়। ২৫ বছরের এই অভিযুক্তের নাম দীপেশ বলে জানা গেছে।

একইভাবে দিল্লির গুরুগ্রাম থেকেও ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে। বিহারের বাসিন্দা, ওই ১৩ বছরের কিশোরী তার মা-বাবা ও তিন ভাই-বোনের সঙ্গে ভাড়া থাকত পশ্চিম দিল্লিতে। বাড়িওয়ালার স্ত্রীর অনুরোধে তার ভাই প্রবীণের বাড়িতে কিশোরীকে কাজ করতে পাঠানো হয়। এক মাস পর মেয়েটির বাবার কাছে হঠাৎই খবর আসে খাবারে বিষক্রিয়া জনিত কারণে তার মেয়ে মারা গেছে।

২৩ আগস্ট মৃত্যুর খবর আসার চার ঘন্টা পর মৃতদেহ আসে বাড়িতে। দ্রুত মেয়েকে দাহ করার জন্যও চাপ দেওয়ার চেষ্টা হলে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তখন দেহ দেখার জন্য জোর দেওয়া হয়। মৃতদেহে আঘাতের দাগ দেখতে পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের দ্বারস্থ হয় স্থানীয়রা। ময়না তদন্তের রিপোর্টে বেরিয়ে আসে মেয়েকে ধর্ষণ করে গলা টিপে হত্যার কথা। তার পরই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে প্রবীনকে। জিজ্ঞাসাবাদ করছে বাড়িওয়ালা ও তার স্ত্রীকেও। তাঁদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

আইনে এই ধরণের জঘন্যতম অপরাধের জন্য যথেষ্ট দন্ডবিধি থাকলেও রাজধানী দিল্লিতে এই সব ঘটনা ঘটে চলেছে প্রতিমুহূর্তে। এই মাসের প্রথম দিকেই দক্ষিন পশ্চিম দিল্লির একটি গ্রামে ৯ বছরের শিশু কন্যাকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়। অভিযোগ উঠেছিল বাড়ির উল্টোদিকের শ্মশানের ৫৫ বছরের পুরোহিত ও তার সহকারীদের বিরুদ্ধে। ভারতীয় দন্ডবিধি এবং পকসো আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাও হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে।

২০২০ সালে ২৯ সেপ্টেম্বরে কেন্দ্র সরকারের দেওয়া তথ্য বলছে, ভারতে ২০১৯ সালে প্রতিদিনে গড়ে ৮৭টি ধর্ষণ হয়। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) এই রিপোর্টে বলা হয়েছে সেই সংখ্যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০১৯ এর পর এখন সেই সংখ্যা যে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে তা বলার অবকাশ রাখে না। যদিও এই তথ্য দায়ের হওয়া মামলা থেকে প্রাপ্ত সরকারি সংখ্যা। ভারতে ধর্ষণের অধিকাংশ মামলা রুজুই হয় না। পুলিশ প্রশাসন এত সক্রিয় থাকা সত্বেও আকছার হওয়া ধর্ষণের ঘটনাগুলি প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আইনি ব্যবস্থাপনার প্রতি।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here