বিজেপির ঘরানা বিসর্জন দিয়ে মুকুলের কাঁধেই বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্ব দিতে চায় দিল্লি!

নীল বনিক, আমাদের ভারত, ২ অক্টোবর: ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। দলীয় ঘরানার বাইরে বেড়িয়ে মুকুলের কাঁধেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্ব দিতে চান শাহ। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে রাজ্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডা। বৈঠকে ঠিক হয়েছে মুকুল রায়কে আগামী বিধানসভা ভোটের দলের সহ- পর্যবেক্ষক করা হবে। আর এই পদ পেলেই দিলীপ ঘোষ, সুব্রত চট্টোপাধ্যায়দের উপর ছুড়ি ঘোরানোর ক্ষমতা পেয়ে যাবেন মুকুল রায়।

বিজেপি তার নিজস্ব ঘরানা যে বিসর্জন দিচ্ছে তা প্রথম সরাসরি বলেন বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। তিনি জানান, তৃণমূল থেকে এসেই দলে এখন পদ পেয়ে যাচ্ছে। পদ পেতে সংঘ বা বিজেপির মতাদর্শ না থাকলেও চলে।

রাহুল সিনহার এই কথা দিল্লিতে আবারও গতকালের বৈঠকে একপ্রকার মান্যতা দিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী মুকুল রায় আগামী বিধানসভা ভোটের দায়িত্ব পেলে রাজ্য বিজেপিতে তৃণমূলের থেকে আসা নেতাদের বাড়বাড়ন্ত অনেক বাড়বে যা সংঘের মতাদর্শে বিশ্বাসী বিজেপি নেতারা মানতে পারবেন না। ফলে দলের তাত্বিক নেতাদের বসে যাওয়ার প্রবনতা বাড়বে বলে এখনই দলের একাংশের মত।

রাজ্য বিজেপির অনেক সিনিয়ার নেতাই মনে করছেন মতাদর্শকে বাদ দিয়ে এ রাজ্যে বিজেপি কখনোই ভালো ফল করবে না। মুকুল রায়ের বাড়তি গুরুত্বে সৌমিত্র খাঁ, অনুপম হাজরার মত নেতাদের বাড়বাড়ন্তটা স্বাভাবিক। ইতিমধ্যেই অনুপম হাজরাকে কেন্দ্রীয় সম্পাদক করায় দলের আদর্শবান নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে পৌছেছে। তাঁরা মনে করছেন এরফলে ধীরে ধীরে বিজেপির তৃণমূলায়ন হচ্ছে। ভোট যত এগিয়ে আসবে এই ক্ষোভ বাড়বে বলেই দলের একাংশের মত। আর তাতে সবথেকে বেশি লাভবান হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কারণ চলতি সপ্তাহেই আদি ও নব্যদের লড়াইয়ে রাজ্য বিজেপির ভাবমূর্তি অনেকটাই কালিমালিপ্ত হয়েছে। খোদ রাজ্য বিজেপির সদরদপ্তরের সামনেই উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি শিবাজী সিংহ রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপির আদি কর্মীরা। আর এই ছবি যদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে তাহলে অমিত শাহ মিশন ২০২১ এর স্বপ্ন অধরাই থাকবে বলে বিজেপির একাংশ ইতিমধ্যেই বলতে শুরু করেছে।

পুরনো নেতা কর্মীদের বক্তব্য, লোকসভা ভোটে রাজ্য বিজেপির উত্থানের পিছনে মুকুল রায়ের ভূমিকা কখনো অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু মুকুল রায়ের উপর যদি নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তাহলে একসময় তার অনুগামীদের লম্ফঝম্পও হাতের বাইরে চলে যাবে। মুকুল রায়ের সব অনুগামী দীর্ঘদিন তৃণমূলে ক্ষমতার আম খেয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সমাজে অনেক অভিযোগ রয়েছে। হঠাৎ করে গেরুয়া পতাকা কাঁধে তুলে নিয়ে কেউ ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসী হবেন না। তাছাড়া মতাদর্শহীন মুকুল রায়ের অনুগামীদের পায়ে বেড়ি পরাতে পারবেন না সংঘের দায়িত্বশীল প্রচারকরা। যার ফল ভুগতে হবে গোটা দলকে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here