খাবার পৌঁছতে দেরি হওয়ায় ডেলিভারি বয়কে মারধর, অভিযুক্ত মহিলা সোদপুর পানশিলার বাসিন্দা

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২৩ নভেম্বর: অনলাইনে অর্ডার দেওয়া খাবার ডেলিভারি দিতে দেরি হওয়ায় গ্রাহকদের সাথে গন্ডগোলের ঘটনা সামনে আসে। মঙ্গলবার রাতেও এই ধরনের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সোদপুরের পানশিলা আনন্দপল্লীতে। এব্যাপারে ঘোলা থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উজ্বল দাস নামে ওই ডেলিভারি বয়ের অভিযোগ গতকাল সন্ধ্যার পর সোদপুর কালীতলা মাঠ এলাকার লোকেশন থেকে একটি অর্ডার আসে। সেইমতো ডেলিভারি বয় উজ্বল দাস ওই লোকেশনে খাবার নিয়ে পৌঁছন। তিনি সাইকেলে করে খাবার ডেলিভারি দেন। তাই সাইকেলে করে যেতে তাঁর কিছুটা দেরু হয়ে যায় তার। উজ্বলের অভিযোগ, সামান্য দেরি হওয়ায় ফোনেই মৌমিতা চক্রবর্তী নামে এক গ্রাহক প্রথমে তাকে গালিগালাজ করেন। তা সত্ত্বেও খাবার নিয়ে নির্দিষ্ট লোকেশনে পৌঁছানোর পর ৫০০ মিটার দূরে অন্য লোকেশনে পানশিলা আনন্দপল্লীতে তাকে যেতে বলা হয়। প্রথমে উজ্বল যেতে অস্বীকার করলেও পরে সে পানশিলা আনন্দপল্লীর ওই লোকেশনে খাবার দিতে যায়। ডেলিভারি বয় উজ্জ্বল দাসের দাবি, খাবার নেওয়ার পর ফের ওই মহিলা তাকে গালিগালাজ করে।

শুধু তাই নয়, তার গালে থাপ্পড় মারার পাশাপাশি হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে সেটি ছুড়ে ফেলে ভেঙ্গে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ওই ফোনটি উজ্বল কিস্তিতে কিনেছিলেন। এমনকি তার সাইকেলটিরও ক্ষতি করে ওই মহিলা। এরপরও তাকে ওই মহিলা হুমকিও দেন বলে অভিযোগ।

উজ্বল তার সহকর্মীদের সমস্ত বিষয় জানান। রাতেই সোদপুর জোনের অন্যান্য জ্যোমাটো বয়রা একত্রিত হয়ে ঘোলা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। উজ্বলের আরও অভিযোগ, যে অ্যাকাউন্ট থেকে খাবার অর্ডার করা হয়েছিল সেটি ভুয়ো ছিল। এদিন উজ্জ্বল দাস বলেন, “আমি সাইকেলে খাবার ডেলিভারি দিতে যাই তাই একটু সময় বেশি লেগেছিল, কিন্তু গ্রাহকের দেওয়া লোকেশনে যাওয়ার সময় গ্রাহক আমাকে অন্য আরেকটি লোকেশন দেন। আমি প্রথমে যেতে অস্বীকার করলেও পরে ওনার কথা মত পরবর্তী লোকেশনে খাবার ডেলিভারি দিতে যাই। সেখানে উনি আমাকে গালাগালি দিলে আমি বলেছিলাম আমরা কি মানুষ না। আর এই কথা শুনে ওই মহিলা আমায় চড় মারেন, আমার কষ্টের ফোনটাও ভেঙ্গে দেন। এখন আমি কি করে কাজ করবো বুঝতে পারছি না।” এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই অন্যান্য ডেলিভারি বয়রা এই গোটা ঘটনার বিরোধিতা করে ঘোলা থানায় বিষয়টি লিখিত ভাবে অভিযোগ করেন। তাদের বক্তব্য, ” আমরা ওই মহিলা গ্রাহকের থেকে যা ফোনটা ভেঙ্গে দিয়েছে সেই টাকা টা ফেরত দিতে বলেছিলাম। কিন্তু ওই মহিলা উল্টে বলেছেন, আমরা যা ইচ্ছা করে নিতে পারি উনি টাকা দেবেন না।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here