মমতা স্বীকার করেন না কিন্তু শশ্মানে চিতা জ্বলে, তৃণমূল নেত্রীকে তোপ দিলীপ ঘোষের

আমাদের ভারত, ১৭ সেপ্টেম্বর: শিশুদের অজানা জ্বরের প্রকোপ প্রথমদিকে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ক্রমশ তা রাজ্যে একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। আর এই ইস্যুতেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করেছে বিরোধীরা। ইতিমধ্যে শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার এসএসকেএম-এ স্বাস্থ্যসচিব দাবি করেছেন, অজানা জ্বরে কারো মৃত্যু হয়নি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দেগে দিলীপ ঘোষ বলেন,”মমতা স্বীকার করেন না, অথচ শ্মশানের চিতা জ্বলে”।

দিলীপ ঘোষের আরও দাবি, ঠিক যেমন ভোট-পরবর্তী হিংসার কথা স্বীকার করেননি মমতা। তেমনি জ্বরে সংক্রান্ত শিশুদের তথ্য গোপন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন না অথচ শ্মশানের চিতা জ্বলে। করোনার সময়ে এই একই কথা বলেছেন। এখন আবার শিশুমৃত্যু নিয়েও এই একই কথা বলছেন।”

দীলিপবাবু বলেন,‌”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুই স্বীকার করেন না। ঠিক যেমন ভোট-পরবর্তী হিংসার কথা স্বীকার করেননি।” রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, ভোট-পরবর্তী হিংসায় যদি ১৬ জন তৃণমূল নেতার মৃত্যু হয়ে থাকে তাহলে তাদের কেন স্বীকৃতি দিলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এখন আবা করোনায় রাজ্য তথ্য গোপন করছে বলে বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন। দিলীপবাবু মনে করিয়ে দেন, করোনায় মৃতদের কোমর্বিটিতে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করেছিল রাজ্য সরকার। তিনি দাবি করেন, এভাবেই তথ্য গোপন করেন মমতা। আর তাতেই বিপদ বাড়ে।

ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের বিরুদ্ধে কোভিড বিধি ভঙ্গের অভিযোগ করেছে তৃণমূল। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “প্রিয়াংকার সঙ্গে পারছে না, ভয় পাচ্ছে। নন্দীগ্রামের ফলাফল আবার হয়ে যাবে, তাই ওকে নানাভাবে আঘাত করছে।” তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডারে ফর্ম তোলার জন্য অনেক লোক হয়েছে, সেখানে করোনার নিয়মবিধি মানা হয়নি, এজন্য তৃণমূলের কোনও নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে স্বাস্থ্য সচিব জানিয়েছেন, অজানা জ্বরে মারা যাওয়ার কোনও ঘটনা রাজ্যে নেই। একই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রীও। তার দাবি, শিশুদের জ্বরের প্রকোপ অজানা কিছু নয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা বি ও আর এস ভাইরাসের জন্যই জ্বর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। যে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে তাদের অন্য অসুখ ছিল বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য সচিব। শেষ দু সপ্তাহ ধরে উত্তরবঙ্গে অজানা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চলেছেন শিশুরা। এখনও পর্যন্ত সাতটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। গত দুই সপ্তাহ ধরে টানা জ্বরের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গে জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। পুরুলিয়াতেও ২৩৫ এর ওপর শিশু ভর্তি হয়েছে জেলা সদর হাসপাতালে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here