পুলিশের সামনেই দিলীপ ঘোষকে কালো পতাকা, ইটবৃষ্টি, ধুন্ধুমার জামালপুর

আমাদের ভারত,জামালপুর, ১০ অক্টোবর :
জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে কালো পতাকা দেখিয়ে হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। শনিবার বিকাল নাগাদ পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় নুড়ি মোড়ের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা কালো পতাকা নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। সেখান থেকেই ইট এবং লাঠি নিয়ে হামলার অভিযোগ তোলে বিজেপি। ঘটনার জেরে বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষ বেধে যায়। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।

জামালপুর থানার পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা বিজেপির বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে বর্ধমানের কর্মী সভা শেষ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জামালপুরের জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নুড়ি মোড়ের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা কালো পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। অভিযোগ, দিলীপ ঘোষ সহ বিজেপির কর্মী সমর্থকদের লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়া হয়। বেশ কিছু বিজেপি সমর্থক প্রতিবাদ করতে এগিয়ে গেলে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। জামালপুর থানার পুলিশ লাঠি নিয়ে তেড়ে গিয়ে দুই পক্ষকে হটিয়ে দেয়।

পরে জামালপুরের সাহাপুর প্রগতি মঞ্চ ময়দানে কৃষক সমাবেশে যোগ দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মঞ্চ থেকে দিলীপ ঘোষ বলেন বর্ধমান থেকে জামালপুর আসার পথে যেভাবে হামলা চালানো হল, ইট পাটকেল খেতে হবে ভাবতে পারিনি। কিন্তু এই ভাবে বিজেপিকে আটকানো যাবে না নবান্ন অভিযান করে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি। আজ র‍্যালিতে আমাদের সঙ্গে তো প্রায় তিনশো ছেলে ছিল। তারা যদি তাদের মাড়িয়ে চলে যেত তাহলে কি খুঁজে পাওয়া যেত? ধান মাড়ানোর মতো করে মাড়িয়ে দিত। তৃণমূল কংগ্রেসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে তোমরা চিৎকার করছিল সেই কার্যালয়ের প্রত্যেকটা ইট আমরা খুলে নিয়ে আসতে পারি।

বলবিন্দর সিংয়ের প্রসঙ্গ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, বলবিন্দর সিং এর মাথায় পাগড়ি ছিল অর্থাৎ তিনি শিখ। সেই কারণেই পুলিশ তাঁর পাগড়ি খুলে দিয়ে অপমান করে  গ্রেফতার করার সাহস দেখিয়েছে। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি তার মাথায় যদি গোল টুপি থাকতো তাহলে পুলিশ কি তাঁকে এইভাবে গ্রেফতার করতে পারত, না কি অসম্মান করতে পারত?  তিনি শিখ বলেই পুলিশ এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এটা লজ্জাজনক। আজ সারাদেশ ঘটনার প্রতিবাদে ছি ছি করছে। এই পুলিশের লজ্জা চলে গেছে  তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে মেলামেশা করে। তাই যতক্ষন না পরিবর্তন হচ্ছে এদের নেশা কাটবে না। 

তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সরকার  পরিবর্তন করে এদের নেশা কাটিয়ে দিতে হবে। বিজেপি সাধারণ মানুষের সঙ্গে আছে। বিজেপি যে কথা দেয় সেই কথা রাখে। তাই দেখা যাচ্ছে সারা দেশজুড়ে যখন নির্বাচন হচ্ছে বিজেপি সিট বাড়ছে। বিধানসভা নির্বাচনে ২০০ আসন পেয়ে বিজেপি বাংলায় সরকার গড়বে। তাই যারা ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে , বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে তাদের বলছি অভ্যাস পাল্টান।  সময় বদলে গেছে, মানুষ বদলে যাচ্ছে সোনার বাংলা গড়ে আগামীদিনের ছেলেমেয়েদের জন্য ভবিষ্যতে গড়বো আমরা।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, আমি গ্রামের দিকে গেলে যে জায়গায় আমরা জিতিনি সেখানে গাড়ি আটকে ইটপাটকেল ছুড়ে কালোপতাকা দেখানো হয়। এখানেও একই ঘটনা ঘটেছে।  পুলিশের সামনে কিভাবে ঘটনা ঘটলো আমিতো অবাক হয়ে ভাবছি। এরকম ঘটনা কতদিন চলবে জানি না তবে যেভাবে জনরোষ বাড়ছে তাতে যদি পাল্টা হামলা হয় তাতে কি আইন-শৃঙ্খলা থাকবে, নাকি সরকার সামলাতে পারবে।

অন্যদিকে জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শ্রীমন্ত রায় বলেন, এদিন বিজেপি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ তুলছে। তৃণমূল কংগ্রেস কালো পতাকা দেখায়নি। জামালপুরে মানুষজন বিজেপির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে কালো পতাকা দেখিয়েছে। আজ তৃণমূল কংগ্রেস মনে করলেই তাদের এখানে সভা করা বন্ধ করে দিতে পারতো। বরং বিজেপির দুষ্কৃতীরা আমাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও লুঠপাট চালিয়েছে। জিনিসপত্র ভাঙ্গচুর করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here