সঙ্কটে দিলীপের সভাপতিত্ব, কাল রাজ্য বিজেপির সভাপতি নির্বাচন

তারক ভট্টাচার্য
আমাদের ভারত, ১৫ জানুয়ারি: আশঙ্কা ছিল। আর সেটা সত্যিও হল। রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদে নির্বাচন এড়াতে পারলেন না দিলীপ ঘোষ। সভাপতি পদে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে বসলেন দুই নেতা। কাল তাই রাজ্য সভাপতি নির্বাচন করতে জাতীয় গ্রন্থাগারে বৈঠক করতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। তবে, এই ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, ‘কালই সব জানতে পারবেন।’

দিলীপ ঘোষ অবশ্য চেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে মনোনীত করুক। এর আগে এইভাবেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মনোনয়নে তিনি রাহুল সিনহাকে সরিয়ে আচমকাই রাজ্য বিজেপির সভাপতি হন। তার পর থেকে চার বছর কেটে গিয়েছে। তার মধ্যে দিলীপ ঘোষের নিজের মেয়াদের তিনবছরও রয়েছে। বুধবারও নিজের গোঁ-এ অনড় ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তিনি মনোনয়ন পেশ না-করেই বসেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে বোঝাতে রাজ্য বিজেপির দফতরে ছুটে আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির সাংগঠনিক নির্বাচনের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কিরেন রিজিজু। এর পর দীর্ঘ বৈঠক চলে রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে। তারপরেই তিনি মনোনয়নপত্র জমাদিতে রাজি হন। সেই বৈঠক চলাকালীন, সাংবাদিকদেরও রাজ্য বিজেপির দফতরের প্রেসরুমে ঢুকতে দেননি বিজেপির বাছাই করা কর্মীরা।


ছবি: মাঝে কিরেণ রিজিজু।

তবে বিজেপির একাংশ ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্য প্রার্থীদের বুঝিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের চেষ্টা করা হবে। দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে যে দলের অন্দরেই ক্ষোভ বাড়ছিল, তা দিন দু’য়েক আগেই বোঝা যায়। সরাসরি টুইট করে নাগরিকত্ব আইন-বিরোধীদের ওপর গুলিচালনা ইস্যুতে দিলীপবাবুর মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তাঁর সেই টুইটকে রিটুইট করেন বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তও। তাঁদের সেই সব তোপকে নিজস্ব ভঙ্গীতে আড়াল করার চেষ্টাও করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। কিন্তু, তাতেও যে দিলীপ ঘোষের পদসংকট কাটল না, এদিন ফের তা স্পষ্ট হল। তবে, অন্যদের বুঝিয়ে তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করিয়ে দিলীপবাবুকেই সর্বসম্মতভাবে সভাপতি করতে চাইছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here