কৃষিভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জামবনিতে বীজ ও চারাগাছ বিলি

আমাদের আমাদের, ঝাড়গ্রাম, ১১ জুন:‌ বৃহস্পতিবার সকালে ট্রপিক্যাল ইন্সটিটিউট অব্ আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট রিসার্চ সংস্থার উদ্যোগে গ্রামবাসীদের কিছুটা হলেও স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি থানার ঝাড়খন্ড লাগোয়া জামডহরি গ্রামে বিভিন্ন ধরনের বীজ ও চারাগাছ বিলি করা হয়। মূলতঃ এই এলাকার জনজাতির মানুষদের কৃষিভিত্তিক প্রয়াসের মাধ্যমে অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে কলা, লেবু, তেজপাতা, পেঁপে চারাগাছ, ওল ও আদার কন্দ এবং শশা, ঝিঙে, পেঁপে, ভুট্টা, করলা, কলমী ও নটে শাকের বীজ বিলি করা হয়।

সংস্থার সম্পাদক তথা কাপগাড়ির সেবা ভারতী মহাবিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড: প্রণব সাহু জানান, বর্তমান করোনা আবহে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক দিক থেকে সঙ্কটের মুখে। তাঁদের কিছুটা হলেও স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে তাঁদের সংস্থা এই উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি জামডহরি গ্রামকে দত্তক গ্রাম হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এখানের মাটি ও পুকুরের জল পরীক্ষা করে কিছুদিনের মধ্যেই মিশ্র কৃষির অন্তর্গত কিছু ফসল চাষের প্রক্রিয়া শুরু হবে ও পুকুরের জলের গুণমান বিচার করে বেশ কিছু চারাপোনা ছাড়া হবে। প্রাথমিক ব্যায় এই সংস্থা বহন করবে। ফসল চাষ থেকে পাওয়া উদ্বৃত্ত অর্থ জনসাধারণ গ্রহণ করবেন। স্থানীয় বাজার গিধনী, চাকুলিয়া, পড়িহাটি এলাকায় গিয়ে ফসল ও সবজি বিক্রি করে অর্থনৈতিক দিক থেকেও স্বনির্ভর হতে পারবেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের সংস্থার লক্ষ্য হল সরাসরি অর্থ সাহায্য না করে উনাদের স্বনির্ভর করে তোলা। সেদিক থেকে লক্ষ্য রেখে কর্মসূচির নামকরণ করা হয়েছে ‘কৃষিভিত্তিক স্থায়ী অর্থনৈতিক উন্নয়ন’।

বৃহস্পতিবারের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সদস্য অধ্যাপক সুপ্রকাশ দাস, সংস্থার কোষাধ্যক্ষ শিক্ষক নরসিংহ দাস, শিক্ষক মণিকাঞ্চন রায়, শরৎ চ্যাটার্জি প্রমুখ। এলাকাবাসীদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ মান্ডি। দিলীপ বাবু জানান, এই ধরনের কর্মসূচি তাঁদের ধীরে ধীরে আর্থিক দিক থেকে স্বনির্ভর করতে সাহায্য করবে। তাঁরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। আগামী দিনে তাঁরা এই সংস্থার পাশে থেকে সংস্থার প্রকল্পকে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবেন। উল্লেখ্য এই সংস্থা এর আগেও নানান শিক্ষামূলক কর্মশালা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে ও মেদিনীপুর শহরের রাজা নরেন্দ্র লাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ে চা গাছ লাগানোর পাশাপাশি জৈব
সার তৈরির প্রকল্প গ্রহণ করে সুফল পেয়েছে। এদিনের এই কর্মসূচিতে গ্রামবাসীরা প্রায় প্রত্যেকেই উপস্থিত থেকে চারাগাছ, বীজ সংগ্রহ করেছেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here